অধ্যায়–২৭ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও ইতিহাস | বাংলাদেশ তথ্যকোষ (Bangladesh Encyclopedia)
অধ্যায়–২৭
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও ইতিহাস | বাংলাদেশ তথ্যকোষ (Bangladesh Encyclopedia)
ভূমিকা
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন, সংবিধান প্রণয়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু হয়।
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অবস্থা
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশকে একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করতে হয়।
প্রধান চ্যালেঞ্জ—
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি
ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো
খাদ্য সংকট
অর্থনৈতিক দুরবস্থা
শরণার্থীদের পুনর্বাসন
নতুন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে দ্রুত পুনর্গঠনের কাজ শুরু করতে হয়।
স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে ওঠে।
প্রধান কাজ—
সরকারি প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন
আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা
অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপন
সংবিধান প্রণয়ন
বাংলাদেশের সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন।
সংবিধান প্রণয়ন—
১৯৭২ সালে
সংবিধানের মূলনীতি—
১. জাতীয়তাবাদ
২. সমাজতন্ত্র
৩. গণতন্ত্র
৪. ধর্মনিরপেক্ষতা
সংবিধান নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূল কাঠামো নির্ধারণ করে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে স্বীকৃতি লাভ করে।
গুরুত্ব—
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা
বৈদেশিক সহযোগিতা বৃদ্ধি
বিশ্ব সংস্থায় অংশগ্রহণ
বাংলাদেশ পরবর্তীতে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।
পুনর্গঠন ও উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায়
স্বাধীনতার পর দেশের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রধান ক্ষেত্র—
কৃষি উন্নয়ন
শিক্ষা সম্প্রসারণ
যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনর্গঠন
শিল্প পুনরায় চালু করা
কৃষি উন্নয়ন
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উন্নয়নের উদ্যোগ—
উন্নত বীজ ব্যবহার
সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ
কৃষি গবেষণা
কৃষকদের সহায়তা
শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন
স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে শিল্প খাতের উন্নয়ন শুরু হয়।
প্রধান ক্ষেত্র—
তৈরি পোশাক শিল্প
ঔষধ শিল্প
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প
রপ্তানিমুখী শিল্প
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক বিকাশ
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে।
এই সময়ে—
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সক্রিয় হয়।
নির্বাচন ব্যবস্থা বিকশিত হয়।
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা
গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রধান প্রতিষ্ঠান—
ইউনিয়ন পরিষদ
উপজেলা পরিষদ
পৌরসভা
সিটি কর্পোরেশন
সামাজিক উন্নয়ন
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সামাজিক খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে।
প্রধান ক্ষেত্র—
শিক্ষার বিস্তার
স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন
নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি
দারিদ্র্য হ্রাস
নারীর উন্নয়ন
বাংলাদেশের উন্নয়নে নারীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
নারীরা অবদান রাখছেন—
শিক্ষা
কর্মসংস্থান
তৈরি পোশাক শিল্প
উদ্যোক্তা কার্যক্রম
প্রশাসন ও বিভিন্ন পেশায়
তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন
স্বাধীন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার।
প্রধান উন্নয়ন—
ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধি
ডিজিটাল সেবা
অনলাইন ব্যবসা
ফ্রিল্যান্সিং
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র—
বাণিজ্য
শান্তিরক্ষা কার্যক্রম
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
বাংলাদেশের অর্জন
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করেছে।
উল্লেখযোগ্য অর্জন—
খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি
গড় আয়ু বৃদ্ধি
শিক্ষা বিস্তার
রপ্তানি বৃদ্ধি
প্রযুক্তিগত উন্নয়ন
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সম্ভাবনা—
তরুণ জনশক্তি
প্রযুক্তি উন্নয়ন
শিল্প সম্প্রসারণ
কৃষির আধুনিকায়ন
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধি
তথ্যছক
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্বাধীনতা অর্জন | ১৯৭১ |
| সংবিধান প্রণয়ন | ১৯৭২ |
| প্রধান ভিত্তি | স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব |
| উন্নয়নের ক্ষেত্র | কৃষি, শিল্প, প্রযুক্তি |
| গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য | অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন |
অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস একটি সংগ্রাম, পুনর্গঠন ও উন্নয়নের ইতিহাস। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ধীরে ধীরে একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে চলেছে। সংবিধান, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশ তার নিজস্ব পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছে।