অধ্যায়–৭৪ বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য | বাংলাদেশ তথ্যকোষ (Bangladesh Encyclopedia)
অধ্যায়–৭৪
বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য | বাংলাদেশ তথ্যকোষ (Bangladesh Encyclopedia)
ভূমিকা
শিল্প ও বাণিজ্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে শিল্প ও বাণিজ্যনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি, আমদানি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও উদ্যোক্তা কার্যক্রম দেশের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশের শিল্পের ইতিহাস
বাংলাদেশে প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন ধরনের কুটির শিল্প ও হস্তশিল্পের প্রচলন ছিল।
ঐতিহ্যবাহী শিল্প—
তাঁত শিল্প।
মৃৎশিল্প।
নকশিকাঁথা।
ধাতব শিল্প।
পরবর্তীতে আধুনিক শিল্প কারখানার বিকাশ ঘটে।
শিল্পের প্রধান ধরন
বাংলাদেশের শিল্প প্রধানত কয়েকটি ভাগে বিভক্ত।
যেমন—
১. বৃহৎ শিল্প
২. মাঝারি শিল্প
৩. ক্ষুদ্র শিল্প
৪. কুটির শিল্প
তৈরি পোশাক শিল্প
তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতগুলোর একটি।
গুরুত্ব—
বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
রপ্তানি আয় বৃদ্ধি।
শিল্পায়নে অবদান।
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ।
বস্ত্র শিল্প
বস্ত্র শিল্প বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
এর মধ্যে রয়েছে—
সুতা উৎপাদন।
কাপড় তৈরি।
রং ও প্রক্রিয়াজাতকরণ।
ঔষধ শিল্প
বাংলাদেশের ঔষধ শিল্প দ্রুত উন্নয়নশীল একটি খাত।
এর মাধ্যমে—
দেশীয় চাহিদা পূরণ।
বিভিন্ন দেশে ঔষধ রপ্তানি।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
হচ্ছে।
চামড়া শিল্প
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পের একটি অংশ।
উৎপাদন—
জুতা।
ব্যাগ।
বিভিন্ন চামড়াজাত পণ্য।
খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প
কৃষিপণ্যের ওপর ভিত্তি করে খাদ্য শিল্প গড়ে উঠেছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
খাদ্য সংরক্ষণ।
পানীয় উৎপাদন।
কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ।
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প
গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
যেমন—
তাঁত।
মাটির পণ্য।
বাঁশ ও বেতের কাজ।
হস্তশিল্প।
বাংলাদেশের বাণিজ্য ব্যবস্থা
বাণিজ্য প্রধানত দুই ধরনের—
১. অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য
২. আন্তর্জাতিক বাণিজ্য
অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য
দেশের ভেতরে পণ্য ও সেবা ক্রয়-বিক্রয়কে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বলা হয়।
এর সঙ্গে জড়িত—
পাইকারি বাজার।
খুচরা বাজার।
ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য
বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করে।
রপ্তানি পণ্য—
তৈরি পোশাক।
পাটজাত পণ্য।
ঔষধ।
চামড়াজাত পণ্য।
আমদানি পণ্য—
যন্ত্রপাতি।
কাঁচামাল।
জ্বালানি।
রপ্তানি খাত
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রপ্তানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রপ্তানির মাধ্যমে—
বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন।
শিল্প উন্নয়ন।
আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান তৈরি।
হয়।
উদ্যোক্তা উন্নয়ন
বাংলাদেশে নতুন উদ্যোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উদ্যোক্তারা কাজ করছেন—
শিল্প খাতে।
অনলাইন ব্যবসায়।
প্রযুক্তি খাতে।
সেবা খাতে।
শিল্প খাতের চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের শিল্প খাতে কিছু সমস্যা রয়েছে।
যেমন—
দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন।
জ্বালানি ও অবকাঠামো সমস্যা।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা।
পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ।
শিল্প উন্নয়নের ভবিষ্যৎ
বাংলাদেশের শিল্প খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা—
প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প।
নতুন বিনিয়োগ।
রপ্তানি বৈচিত্র্য।
আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা।
তথ্যছক
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রধান শিল্প | পোশাক, বস্ত্র, ঔষধ |
| গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য | রপ্তানি ও আমদানি |
| বড় রপ্তানি খাত | তৈরি পোশাক |
| ক্ষুদ্র শিল্প | তাঁত ও হস্তশিল্প |
| ভবিষ্যৎ লক্ষ্য | আধুনিক শিল্প উন্নয়ন |
অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ
বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। তৈরি পোশাক, বস্ত্র, ঔষধ ও ক্ষুদ্র শিল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনশক্তি ও নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প খাত আরও শক্তিশালী হতে পারে।