পরিশিষ্ট–৪ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক পরিভাষা | বাংলাদেশ তথ্যকোষ (Bangladesh Encyclopedia)
পরিশিষ্ট–৪
গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক পরিভাষা | বাংলাদেশ তথ্যকোষ (Bangladesh Encyclopedia)
ভূমিকা
বাংলাদেশের সংবিধান, রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রশাসন এবং আইনব্যবস্থা বুঝতে কিছু মৌলিক পরিভাষা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিশিষ্টে বহুল ব্যবহৃত সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক শব্দগুলোর সহজ ও সংক্ষিপ্ত অর্থ তুলে ধরা হয়েছে।
রাষ্ট্র
নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, জনগণ, সরকার এবং সার্বভৌম ক্ষমতার সমন্বয়ে গঠিত রাজনৈতিক সত্তাকে রাষ্ট্র বলা হয়।
সংবিধান
রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ আইনকে সংবিধান বলা হয়। দেশের সকল আইন ও সরকারি কার্যক্রম সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হয়।
সার্বভৌমত্ব
নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং স্বাধীনভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ ক্ষমতাকে সার্বভৌমত্ব বলা হয়।
গণতন্ত্র
যে শাসনব্যবস্থায় জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে, তাকে গণতন্ত্র বলা হয়।
প্রজাতন্ত্র
যে রাষ্ট্রে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় এবং বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র থাকে না, তাকে প্রজাতন্ত্র বলা হয়।
সরকার
রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্তৃপক্ষকে সরকার বলা হয়।
আইনসভা
যে প্রতিষ্ঠান আইন প্রণয়ন করে, তাকে আইনসভা বলা হয়।
বাংলাদেশে এটি হলো জাতীয় সংসদ।
নির্বাহী বিভাগ
যে বিভাগ আইন বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনার দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাকে নির্বাহী বিভাগ বলা হয়।
বিচার বিভাগ
যে বিভাগ আইন অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনা করে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, তাকে বিচার বিভাগ বলা হয়।
জাতীয় সংসদ
বাংলাদেশের আইন প্রণয়নের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান হলো জাতীয় সংসদ।
মন্ত্রণালয়
সরকারের নির্দিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গঠিত প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানকে মন্ত্রণালয় বলা হয়।
প্রশাসন
রাষ্ট্রের নীতি ও আইন বাস্তবায়নের জন্য সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থাকে প্রশাসন বলা হয়।
বিভাগ
প্রশাসনিক সুবিধার জন্য দেশের বৃহৎ অঞ্চলকে বিভাগ বলা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে ৮টি বিভাগ রয়েছে।
জেলা
বিভাগের অধীন প্রশাসনিক একককে জেলা বলা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে ৬৪টি জেলা রয়েছে।
উপজেলা
জেলার অধীন প্রশাসনিক একককে উপজেলা বলা হয়।
ইউনিয়ন পরিষদ
গ্রামীণ এলাকার সর্বনিম্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হলো ইউনিয়ন পরিষদ।
সিটি করপোরেশন
বৃহৎ শহরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে সিটি করপোরেশন বলা হয়।
পৌরসভা
ছোট ও মাঝারি শহরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে পৌরসভা বলা হয়।
নাগরিক
যিনি আইন অনুযায়ী একটি রাষ্ট্রের সদস্য এবং রাষ্ট্রের অধিকার ও দায়িত্ব ভোগ করেন, তাকে নাগরিক বলা হয়।
মৌলিক অধিকার
সংবিধান কর্তৃক নাগরিকদের জন্য নিশ্চিত করা অধিকারগুলোকে মৌলিক অধিকার বলা হয়।
আইনের শাসন
রাষ্ট্রের সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আইনের অধীন থাকবে—এই নীতিকে আইনের শাসন বলা হয়।
সুশাসন
স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার এবং দক্ষ প্রশাসনের সমন্বিত ব্যবস্থাকে সুশাসন বলা হয়।
নির্বাচন
জনগণের ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে নির্বাচন বলা হয়।
স্থানীয় সরকার
স্থানীয় জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে স্থানীয় সরকার বলা হয়।
ই-গভর্ন্যান্স
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারি সেবা প্রদান ব্যবস্থাকে ই-গভর্ন্যান্স বলা হয়।
তথ্যছক
| পরিভাষা | সংক্ষিপ্ত অর্থ |
|---|---|
| সংবিধান | রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন |
| সার্বভৌমত্ব | স্বাধীনভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা |
| গণতন্ত্র | জনগণের অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা |
| আইনসভা | আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান |
| নির্বাহী বিভাগ | রাষ্ট্র পরিচালনাকারী বিভাগ |
| বিচার বিভাগ | বিচারকার্য পরিচালনাকারী বিভাগ |
| প্রশাসন | সরকারি কার্যক্রম বাস্তবায়নের ব্যবস্থা |
| স্থানীয় সরকার | স্থানীয় উন্নয়ন ও জনসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান |
পরিশিষ্টের সারসংক্ষেপ
বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রশাসনিক কাঠামো বুঝতে এই মৌলিক পরিভাষাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে রাষ্ট্র পরিচালনা, আইন, প্রশাসন এবং নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সহজে ধারণা লাভ করা যায়।