পৃথিবীর ইতিহাস (১–৬১০ খ্রিস্টাব্দ
পৃথিবীর ইতিহাস (১–৬১০ খ্রিস্টাব্দ)
খণ্ড–১
অধ্যায়–১
১ খ্রিস্টাব্দে পৃথিবীর অবস্থা
পৃথিবীর জনসংখ্যা
খ্রিস্টাব্দ ১ সালের দিকে পৃথিবীর আনুমানিক জনসংখ্যা ছিল ১৭–৩০ কোটি। অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং বড় শহর ছিল তুলনামূলকভাবে কম।
বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলো
রোমান সাম্রাজ্য — ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল শাসন করত।
হান রাজবংশ (চীন) — পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র।
পার্থিয়ান সাম্রাজ্য — রোম ও চীনের মাঝখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।
ভারতীয় উপমহাদেশ — বিভিন্ন রাজ্য ও রাজবংশের সমন্বয়ে গঠিত; পরবর্তীতে গুপ্ত সাম্রাজ্যের উত্থান ঘটে।
অধ্যায়–২
রোমান সাম্রাজ্য
রাজধানী
রোম
ভাষা
ল্যাটিন
গ্রিক
উল্লেখযোগ্য সম্রাট
অগাস্টাস
টিবেরিয়াস
ট্রাজান
হ্যাড্রিয়ান
কনস্টান্টাইন
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
সুসংগঠিত সড়কব্যবস্থা নির্মাণ
শক্তিশালী সেনাবাহিনী
বিশাল জলাধার ও অ্যাকুয়েডাক্ট
আইনের বিকাশ
বাণিজ্যের প্রসার
অধ্যায়–৩
যীশু (আ.) ও খ্রিস্টধর্মের বিস্তার
প্রথম শতকে যীশু (আ.)-এর শিক্ষা অনুসরণকারী একটি ছোট সম্প্রদায় ধীরে ধীরে বিস্তৃত হতে থাকে। পরবর্তী শতকগুলোতে নানা নির্যাতনের মুখোমুখি হলেও এই ধর্ম ইউরোপ ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
গুরুত্বপূর্ণ সাল
আনুমানিক ৩০–৩৩: যীশু (আ.)-এর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার দাবি (খ্রিস্টীয় বিশ্বাস অনুযায়ী; ইসলামে এ বিষয়ে ভিন্ন বিশ্বাস রয়েছে)।
৬৪: রোমে খ্রিস্টানদের ওপর নির্যাতন।
৩১৩: সম্রাট কনস্টান্টাইনের সময় খ্রিস্টধর্ম বৈধতা পায়।
৩৮০: রোমান সাম্রাজ্যের সরকারি ধর্ম হিসেবে খ্রিস্টধর্ম স্বীকৃতি পায়।
অধ্যায়–৪
হান রাজবংশ (চীন)
হান যুগে চীন প্রশাসন, কৃষি, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যে ব্যাপক উন্নতি করে।
উল্লেখযোগ্য অবদান
কাগজ তৈরির প্রযুক্তির উন্নয়ন
সিল্ক রোডের বিস্তার
উন্নত প্রশাসনিক ব্যবস্থা
জ্যোতির্বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে অগ্রগতি
অধ্যায়–৫
ভারতীয় উপমহাদেশ
প্রথম শতক থেকে বিভিন্ন রাজবংশের উত্থান ঘটে এবং পরবর্তীতে গুপ্ত সাম্রাজ্যকে ভারতের "স্বর্ণযুগ" বলা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ অবদান
শূন্য (০) ও দশমিক পদ্ধতির বিকাশ
জ্যোতির্বিজ্ঞান
চিকিৎসাবিজ্ঞান
সংস্কৃত সাহিত্য
অধ্যায়–৬
রোমান সাম্রাজ্যের বিভক্তি ও পতন
৩৯৫ খ্রিস্টাব্দ
রোমান সাম্রাজ্য দুই ভাগে বিভক্ত হয়:
পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্য
পূর্ব রোমান (বাইজেন্টাইন) সাম্রাজ্য
৪৭৬ খ্রিস্টাব্দ
পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে, যা ইউরোপে মধ্যযুগের সূচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।
অধ্যায়–৭
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য
রাজধানী: কনস্টান্টিনোপল
এই সাম্রাজ্য প্রায় এক হাজার বছর ধরে টিকে ছিল এবং ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।
অধ্যায়–৮
৬১০ সালের প্রাক্কালে বিশ্বের অবস্থা
৬১০ সালের দিকে পৃথিবীতে তিনটি প্রধান শক্তি ছিল:
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য
সাসানীয় (পারস্য) সাম্রাজ্য
চীনের সুই রাজবংশ
এই সময় আরব উপদ্বীপে ইসলামের আবির্ভাবের মাধ্যমে বিশ্ব ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছিল।
খণ্ড–১ এর সারাংশ
১–৬১০ খ্রিস্টাব্দে পৃথিবীতে বড় বড় সাম্রাজ্যের উত্থান, বাণিজ্যের প্রসার, ধর্মীয় পরিবর্তন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপিত হয়। এই সময়ের শেষভাগেই ইসলামের আবির্ভাব মানবসভ্যতার ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
পরবর্তী খণ্ড–২ (৬১০–৭৫০ খ্রিস্টাব্দ)-এ থাকবে:
প্রথম ওহী
হিজরত
বদর, উহুদ ও খন্দকের যুদ্ধ
মক্কা বিজয়
বিদায় হজ
রাসূল ﷺ-এর ইন্তেকাল
খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগ
ইসলামের দ্রুত বিস্তার
বিস্তারিত মানচিত্র ও টাইমলাইনসহ উপস্থাপনা।