পৃথিবীর ইতিহাস (১–২০২৬) খণ্ড–৯
পৃথিবীর ইতিহাস (১–২০২৬)
খণ্ড–৯
(১৯১৪–১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ)
দুটি বিশ্বযুদ্ধ, রুশ বিপ্লব, মহামন্দা ও জাতিসংঘের জন্ম
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই অধ্যায়ে যুদ্ধ, গণহত্যা ও পারমাণবিক হামলার মতো সংবেদনশীল ঐতিহাসিক ঘটনা রয়েছে। এগুলো ইতিহাসের তথ্যভিত্তিক বিবরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
অধ্যায়–৮৬
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪–১৯১৮)
যুদ্ধের সূচনা
১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির যুবরাজ Archduke Franz Ferdinand সারায়েভোতে নিহত হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপের জোটভিত্তিক রাজনীতি দ্রুত বিশ্বযুদ্ধে রূপ নেয়।
প্রধান পক্ষ
মিত্রশক্তি (Allies):
ব্রিটেন
ফ্রান্স
রাশিয়া (পরে যুক্তরাষ্ট্রও যোগ দেয়)
কেন্দ্রীয় শক্তি (Central Powers):
জার্মানি
অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি
অটোমান সাম্রাজ্য
যুদ্ধের বৈশিষ্ট্য
ট্রেঞ্চ যুদ্ধ
মেশিনগান
ট্যাংকের প্রথম ব্যবহার
যুদ্ধবিমান
বিষাক্ত গ্যাস
প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটে বলে ধারণা করা হয়।
অধ্যায়–৮৭
রুশ বিপ্লব (১৯১৭)
১৯১৭ সালে রাশিয়ায় দুটি বিপ্লব সংঘটিত হয়।
Vladimir Lenin-এর নেতৃত্বে বলশেভিকরা ক্ষমতায় আসে।
এর ফলে:
রুশ সাম্রাজ্যের অবসান
সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা
পরবর্তীতে সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্ম
অধ্যায়–৮৮
যুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্ব
১৯১৯ সালে ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তির ফলে:
জার্মানির ওপর কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়।
ইউরোপের মানচিত্র পরিবর্তিত হয়।
বহু নতুন রাষ্ট্র গঠিত হয়।
এই কঠোর শর্তগুলো ভবিষ্যতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অধ্যায়–৮৯
মহামন্দা (১৯২৯)
১৯২৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার ধসে পড়ে।
এর প্রভাব:
বিশ্বব্যাপী বেকারত্ব
ব্যাংক বন্ধ
শিল্প উৎপাদন কমে যায়
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হ্রাস পায়
এটি আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকটগুলোর একটি।
অধ্যায়–৯০
নাৎসি জার্মানির উত্থান
অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে Adolf Hitler ক্ষমতায় আসেন।
তিনি:
একনায়কতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
জার্মান সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেন।
আক্রমণাত্মক বৈদেশিক নীতি গ্রহণ করেন।
অধ্যায়–৯১
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯–১৯৪৫)
১৯৩৯ সালে জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
প্রধান পক্ষ
মিত্রশক্তি:
যুক্তরাজ্য
সোভিয়েত ইউনিয়ন
যুক্তরাষ্ট্র
চীন
ফ্রান্স (পরবর্তীতে মুক্ত ফরাসি বাহিনী)
অক্ষশক্তি:
জার্মানি
ইতালি
জাপান
এই যুদ্ধ ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিস্তৃত হয়।
অধ্যায়–৯২
হলোকাস্ট
নাৎসি শাসনামলে ইহুদিসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ওপর পরিকল্পিত গণহত্যা চালানো হয়।
আনুমানিক ৬০ লক্ষ ইহুদি নিহত হন। এছাড়া রোমা জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, রাজনৈতিক বন্দি এবং অন্যান্য অনেক মানুষও নির্যাতন ও হত্যার শিকার হন।
হলোকাস্ট মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃত।
অধ্যায়–৯৩
পারমাণবিক বোমা
১৯৪৫ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র জাপানের:
হিরোশিমা
নাগাসাকি
শহরে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে।
এর ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও দীর্ঘমেয়াদি তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব দেখা দেয়।
অল্প কিছুদিন পর জাপান আত্মসমর্পণ করে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।
অধ্যায়–৯৪
জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠা (১৯৪৫)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভবিষ্যতে বড় যুদ্ধ প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে United Nations প্রতিষ্ঠিত হয়।
এর প্রধান লক্ষ্য:
আন্তর্জাতিক শান্তি
মানবাধিকার
উন্নয়ন সহযোগিতা
কূটনৈতিক সমাধান
অধ্যায়–৯৫
১৯৪৫ সালের বিশ্ব
যুদ্ধ শেষে:
ইউরোপের বহু শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন নতুন দুই পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।
পারমাণবিক যুগের সূচনা হয়।
খণ্ড–৯ এর সারাংশ
১৯১৪–১৯৪৫ ছিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে অস্থির সময়গুলোর একটি। দুটি বিশ্বযুদ্ধ, রুশ বিপ্লব, মহামন্দা, হলোকাস্ট এবং পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার বিশ্বরাজনীতি, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আমূল পরিবর্তন করে। এই সময়ের পরই আধুনিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে ওঠে।
▶️ পরবর্তী খণ্ড–১০ (১৯৪৫–১৯৯১)
এটি হবে আধুনিক বিশ্বের জন্মকাহিনির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খণ্ড।