বিজ্ঞাপন আন্তর্জাতিক সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র 🛒 দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় সকল সুন্নতী সামগ্রী পেতে ভিজিট করুন 🛒 SUNNAT.INFO সরাসরি কল করুন 📞01782 255 244 সারাদেশে 🚚 ক্যাশ-অন ডেলিভারীর ব্যবস্থা।
তারিখ লোড হচ্ছে...
00
:
00
:
00
AM
UCP-NEWS পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম! প্রচারেই প্রসার - আপনার ব্যবসা, প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির বিজ্ঞাপন দিন স্বল্প খরচে 01767222187

অধ্যায়–১৫ বিশ্বের প্রথম সভ্যতাগুলোর উত্থান

 

অধ্যায়–১৫

বিশ্বের প্রথম সভ্যতাগুলোর উত্থান

Image

Image

Image

Image

ভূমিকা

হাজার হাজার বছর ধরে শিকার, কৃষি ও স্থায়ী বসতির অভিজ্ঞতা অর্জনের পর মানুষ ছোট ছোট গ্রাম থেকে বড় নগর গড়ে তুলতে শুরু করে। কৃষির উন্নতি, খাদ্য উদ্বৃত্ত, বাণিজ্য এবং সংগঠিত প্রশাসনের মাধ্যমে পৃথিবীতে প্রথম সভ্যতাগুলোর জন্ম হয়।

এসব সভ্যতা মানব ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা করে। এখান থেকেই লিখনপদ্ধতি, আইন, নগর পরিকল্পনা, বিজ্ঞান, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার বিকাশ শুরু হয়।


সভ্যতা কী?

সভ্যতা (Civilization) বলতে এমন একটি সংগঠিত মানবসমাজকে বোঝায়, যেখানে সাধারণত—

  • স্থায়ী নগর থাকে

  • কৃষি ও খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে

  • সরকার বা শাসনব্যবস্থা থাকে

  • আইন ও প্রশাসন থাকে

  • বাণিজ্য পরিচালিত হয়

  • লিখনপদ্ধতি ব্যবহৃত হয়

  • শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে


কেন নদীর তীরে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল?

বিশ্বের অধিকাংশ প্রাচীন সভ্যতা নদীর তীরে গড়ে ওঠে।

কারণ—

  • কৃষির জন্য উর্বর মাটি পাওয়া যেত।

  • সহজে পানি পাওয়া যেত।

  • নৌপথে বাণিজ্য করা যেত।

  • মাছসহ খাদ্যের উৎস ছিল।

  • মানুষের বসবাসের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ছিল।


মেসোপটেমিয়া সভ্যতা

সময়কাল: প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ সাল থেকে

অবস্থান:

বর্তমান ইরাকের টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল।

মেসোপটেমিয়াকে প্রায়ই "সভ্যতার সূতিকাগার" বলা হয়।

তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান—

  • বিশ্বের প্রাচীনতম লিখনপদ্ধতিগুলোর একটি (কিউনিফর্ম)

  • নগররাষ্ট্র

  • উন্নত সেচব্যবস্থা

  • গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞান

  • লিখিত আইনসংহিতা


প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা

সময়কাল: প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৩১০০ সাল থেকে

অবস্থান:

নাইল নদীর তীর।

মিশরীয় সভ্যতার বৈশিষ্ট্য—

  • পিরামিড নির্মাণ

  • ফেরাউন শাসনব্যবস্থা

  • হায়ারোগ্লিফিক লিখন

  • উন্নত চিকিৎসাবিজ্ঞান

  • ক্যালেন্ডার ও জ্যোতির্বিজ্ঞান

নাইল নদীর নিয়মিত বন্যা কৃষিকে সমৃদ্ধ করত।


সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতা

সময়কাল: প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৩৩০০–১৩০০ সাল (পরিণত নগর পর্যায় প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ২৬০০–১৯০০ সাল)

অবস্থান:

বর্তমান পাকিস্তান ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল।

বিশেষ বৈশিষ্ট্য—

  • পরিকল্পিত নগর

  • উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা

  • পোড়ামাটির ইট

  • মানসম্মত ওজন ও পরিমাপ

  • সুসংগঠিত বাণিজ্য

মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা ছিল এর প্রধান নগর।


চীনের প্রাচীন সভ্যতা

সময়কাল:

হলুদ নদী (Yellow River) অববাহিকায় প্রাচীন রাষ্ট্র ও সংস্কৃতির বিকাশ কয়েক হাজার বছর ধরে ঘটে। প্রাথমিক রাজবংশগুলোর মধ্যে শাং রাজবংশের (প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ১৬০০–১০৪৬) প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

অবদান—

  • ব্রোঞ্জ প্রযুক্তি

  • রেশম উৎপাদন

  • প্রাচীন চীনা লিপি

  • উন্নত কৃষি

  • শক্তিশালী রাজতন্ত্র


লিখনপদ্ধতির আবিষ্কার

লেখার আবিষ্কার মানব ইতিহাসের অন্যতম বড় পরিবর্তন।

এর মাধ্যমে—

  • আইন সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।

  • ব্যবসার হিসাব রাখা যায়।

  • ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা হয়।

  • জ্ঞান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে যায়।

এই কারণেই লিখনপদ্ধতির আবির্ভাবকে সাধারণত "লিখিত ইতিহাসের সূচনা" হিসেবে ধরা হয়।


বাণিজ্যের বিস্তার

সভ্যতাগুলোর মধ্যে বাণিজ্য গড়ে ওঠে।

মানুষ আদান-প্রদান করত—

  • শস্য

  • ধাতু

  • কাপড়

  • মসলা

  • মূল্যবান পাথর

  • মাটির পাত্র

বাণিজ্যের মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতিও একে অপরকে প্রভাবিত করে।


আইনের বিকাশ

সমাজ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইন প্রয়োজন হয়ে ওঠে।

প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত আইনসংহিতা ছিল হাম্মুরাবির আইনসংহিতা, যা মেসোপটেমিয়ায় প্রণীত হয়।

এটি লিখিত আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন উদাহরণ।


ধর্ম ও সংস্কৃতি

প্রথম দিকের সভ্যতাগুলোর মানুষ সাধারণত প্রকৃতির বিভিন্ন শক্তিকে গুরুত্ব দিত এবং নানা ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার পালন করত।

তারা—

  • মন্দির নির্মাণ করত।

  • ধর্মীয় উৎসব পালন করত।

  • ভাস্কর্য ও চিত্রকলা সৃষ্টি করত।

  • সঙ্গীত ও সাহিত্য চর্চা করত।

এসব কার্যক্রম তাদের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।


তথ্যবক্স

  • প্রথম নগরসভ্যতার উত্থান: প্রায় ৫,০০০–৬,০০০ বছর আগে

  • প্রধান নদীভিত্তিক সভ্যতা: মেসোপটেমিয়া, মিশর, সিন্ধু উপত্যকা ও হলুদ নদী অববাহিকা

  • প্রাচীনতম লিখনপদ্ধতির একটি: কিউনিফর্ম

  • প্রথম দিকের লিখিত আইনসংহিতার অন্যতম উদাহরণ: হাম্মুরাবির আইনসংহিতা


আপনি কি জানেন?

  • মহেঞ্জোদারোর ড্রেনেজ ব্যবস্থা সেই সময়ের জন্য অত্যন্ত উন্নত ছিল।

  • মিশরের পিরামিড আজও বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়কর স্থাপত্যকীর্তি।

  • লিখনপদ্ধতির আবিষ্কারের ফলে ইতিহাস সংরক্ষণ অনেক সহজ হয়ে যায়।


অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ

কৃষিভিত্তিক সমাজ থেকে মানবজাতি ধীরে ধীরে সংগঠিত নগরসভ্যতার দিকে অগ্রসর হয়। মেসোপটেমিয়া, মিশর, সিন্ধু উপত্যকা এবং চীনের প্রাচীন সভ্যতাগুলো মানব ইতিহাসে প্রশাসন, আইন, লিখনপদ্ধতি, বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির ভিত্তি স্থাপন করে। এই সভ্যতাগুলোর অবদান পরবর্তী বিশ্বের রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার বিকাশে গভীর প্রভাব ফেলেছে।


পরবর্তী অধ্যায়:
অধ্যায়–১৬ : ব্রোঞ্জ যুগ ও লৌহ যুগ