পৃথিবীর ইতিহাস (১–২০২৬) খণ্ড–৪
পৃথিবীর ইতিহাস (১–২০২৬)
খণ্ড–৪
(১০০০–১২০০ খ্রিস্টাব্দ)
ক্রুসেড, সালাহউদ্দিন আইয়ুবী, গজনভী ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি
অধ্যায়–৩৩
১০০০ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বের অবস্থা
১০০০ খ্রিস্টাব্দে পৃথিবীর জনসংখ্যা আনুমানিক ৩০–৩৫ কোটি।
বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলো ছিল—
আব্বাসীয় খেলাফত (রাজনৈতিক ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হলেও ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ)
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য
গজনভী সাম্রাজ্য
ফাতিমীয় খেলাফত
চীনের সং রাজবংশ
ইউরোপের বিভিন্ন খ্রিস্টান রাজ্য
বাণিজ্য, কৃষি ও জ্ঞানচর্চা আরও বিস্তৃত হতে থাকে।
অধ্যায়–৩৪
গজনভী সাম্রাজ্যের উত্থান
Mahmud of Ghazni (শাসনকাল: ৯৯৮–১০৩০) গজনভী সাম্রাজ্যকে শক্তিশালী করে তোলেন।
তাঁর শাসনামলে:
সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটে
মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পায়
গজনী শহর জ্ঞান, সাহিত্য ও শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়
অধ্যায়–৩৫
ইউরোপে পরিবর্তনের সূচনা
১১শ শতকে ইউরোপে:
নতুন নতুন শহর গড়ে ওঠে
কৃষিক্ষেত্রে উন্নতি হয়
জনসংখ্যা বাড়তে থাকে
দুর্গ ও গির্জা নির্মাণ বৃদ্ধি পায়
রাজতন্ত্র আরও শক্তিশালী হতে শুরু করে
অধ্যায়–৩৬
প্রথম ক্রুসেড (১০৯৫–১০৯৯)
১০৯৫ সালে ইউরোপের খ্রিস্টান নেতাদের আহ্বানে প্রথম ক্রুসেড শুরু হয়।
এর উদ্দেশ্য ছিল জেরুজালেমসহ পবিত্র স্থানগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা।
১০৯৯ সালে ক্রুসেডাররা জেরুজালেম দখল করে।
অধ্যায়–৩৭
ক্রুসেডের ধারাবাহিকতা
১০৯৫ থেকে ১২৯১ সাল পর্যন্ত একাধিক ক্রুসেড সংঘটিত হয়।
এসব অভিযানে—
ইউরোপ
মধ্যপ্রাচ্য
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য
সবাই গভীরভাবে প্রভাবিত হয়।
এ সময় যুদ্ধের পাশাপাশি বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগও বৃদ্ধি পায়।
অধ্যায়–৩৮
সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর উত্থান
Saladin ছিলেন মধ্যযুগের অন্যতম বিখ্যাত মুসলিম শাসক।
তিনি:
মিশর ও সিরিয়াকে একত্রিত করেন
শক্তিশালী প্রশাসন গড়ে তোলেন
ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে সফল অভিযান পরিচালনা করেন
অধ্যায়–৩৯
হিত্তিনের যুদ্ধ (১১৮৭)
১১৮৭ সালে হিত্তিনের যুদ্ধে সালাহউদ্দিনের বাহিনী ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ বিজয় অর্জন করে।
এর পর জেরুজালেম পুনরায় মুসলিম শাসনের অধীনে আসে।
ইতিহাসে সালাহউদ্দিনকে তাঁর সামরিক দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক আচরণের জন্যও স্মরণ করা হয়।
অধ্যায়–৪০
ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের ধারাবাহিক অগ্রগতি
এই সময়ে:
নতুন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়
চিকিৎসাবিজ্ঞানে গবেষণা বাড়ে
জ্যোতির্বিজ্ঞানে নতুন পর্যবেক্ষণ করা হয়
গণিত ও প্রকৌশলে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে
মুসলিম পণ্ডিতদের অনেক গ্রন্থ পরবর্তীতে ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়ে ইউরোপে পৌঁছে।
অধ্যায়–৪১
ইউরোপে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম
এই সময়ে ইউরোপে উচ্চশিক্ষার নতুন ধারা শুরু হয়।
প্রতিষ্ঠিত হয় কয়েকটি বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়, যেমন:
University of Bologna
University of Oxford
University of Paris
এসব প্রতিষ্ঠান পরবর্তী শতাব্দীতে ইউরোপের জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
অধ্যায়–৪২
চীনের সং রাজবংশ
চীনে:
কাগজের মুদ্রার ব্যবহার বৃদ্ধি পায়
লৌহ উৎপাদন বাড়ে
নৌ-প্রযুক্তির উন্নতি হয়
কম্পাসের ব্যবহার আরও বিস্তৃত হয়
এসব উন্নয়ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করে।
অধ্যায়–৪৩
১২০০ সালের বিশ্ব
১২০০ সালের দিকে বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলো ছিল:
আইয়ুবীয় সালতানাত
আব্বাসীয় খেলাফত
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য
সং রাজবংশ
ইউরোপের বিভিন্ন রাজ্য
তবে দিগন্তে আরেকটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হচ্ছিল—মঙ্গোলদের উত্থান।
খণ্ড–৪ এর সারাংশ
১০০০–১২০০ খ্রিস্টাব্দ ছিল সংঘাত ও জ্ঞানচর্চা—দুইয়েরই যুগ। ক্রুসেড মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলে। একই সময়ে মুসলিম ও ইউরোপীয় শিক্ষাকেন্দ্রগুলো জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, আর পূর্ব এশিয়ায় প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বিশ্ব বাণিজ্যকে নতুন গতি দেয়।