পৃথিবীর ইতিহাস (১–২০২৬) খণ্ড–৩
পৃথিবীর ইতিহাস (১–২০২৬)
খণ্ড–৩
(৭৫০–১০০০ খ্রিস্টাব্দ)
ইসলামী স্বর্ণযুগ, বাগদাদের উত্থান এবং ভাইকিং যুগ
অধ্যায়–২৩
আব্বাসীয় খেলাফতের স্বর্ণযুগ
৭৫০ খ্রিস্টাব্দে আব্বাসীয় খেলাফত প্রতিষ্ঠার পর ইসলামী বিশ্বে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জ্ঞানচর্চার নতুন যুগ শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই বাগদাদ বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ নগরীতে পরিণত হয়।
এই সময়ে মুসলিম শাসকরা শুধু সামরিক শক্তির ওপর নয়, শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং সাহিত্যেও বিশেষ গুরুত্ব দেন।
অধ্যায়–২৪
বাগদাদ – বিশ্বের জ্ঞানকেন্দ্র
৭৬২ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আল-মানসুর বাগদাদ শহর প্রতিষ্ঠা করেন।
বাগদাদকে বৃত্তাকার (Round City) পরিকল্পনায় নির্মাণ করা হয়, যা সে সময়ের প্রকৌশল দক্ষতার এক অনন্য উদাহরণ ছিল।
অল্প সময়ের মধ্যেই এটি বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাকেন্দ্রগুলোর একটিতে পরিণত হয়।
অধ্যায়–২৫
বায়তুল হিকমাহ (House of Wisdom)
খলিফা হারুনুর রশিদ এবং পরে তাঁর পুত্র খলিফা আল-মামুনের সময় বাগদাদে বায়তুল হিকমাহ প্রতিষ্ঠিত ও সম্প্রসারিত হয়।
এটি ছিল:
বিশাল গ্রন্থাগার
গবেষণা প্রতিষ্ঠান
অনুবাদ কেন্দ্র
জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র
এখানে গ্রিক, পারস্য, ভারতীয় ও অন্যান্য সভ্যতার বহু গ্রন্থ আরবি ভাষায় অনুবাদ করা হয়।
অধ্যায়–২৬
বিজ্ঞানের অগ্রগতি
এই সময়ে মুসলিম পণ্ডিতরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রাখেন।
গণিত
বীজগণিতের বিকাশ
দশমিক সংখ্যা ব্যবস্থার প্রসার
শূন্যের ব্যবহার আরও বিস্তৃত হয়
চিকিৎসাবিজ্ঞান
হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা
অস্ত্রোপচারের উন্নয়ন
ওষুধ প্রস্তুতির নতুন পদ্ধতি
জ্যোতির্বিজ্ঞান
তারকার অবস্থান নির্ণয়
মানমন্দির নির্মাণ
উন্নত জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সারণি
ভূগোল
মানচিত্র অঙ্কন
সমুদ্রপথ নির্ধারণ
দূরবর্তী অঞ্চলের বিবরণ সংগ্রহ
অধ্যায়–২৭
উল্লেখযোগ্য মুসলিম মনীষী
এই যুগে বহু বিখ্যাত জ্ঞানী আবির্ভূত হন, যাদের কাজ পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে বিশ্বজুড়ে প্রভাব ফেলেছে।
তাদের গবেষণা ইউরোপীয় রেনেসাঁর ভিত্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অধ্যায়–২৮
ইউরোপের অবস্থা
এই সময়ে ইউরোপের অনেক অঞ্চল রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত ছিল।
তবে ফ্রাঙ্ক শাসক Charlemagne পশ্চিম ইউরোপে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। ৮০০ খ্রিস্টাব্দে তিনি সম্রাট হিসেবে অভিষিক্ত হন।
অধ্যায়–২৯
ভাইকিং যুগ (৭৯৩–১০৬৬)
উত্তর ইউরোপের নাবিক ও যোদ্ধারা, যাদের ভাইকিং বলা হয়, সমুদ্রপথে দীর্ঘ অভিযান চালাতেন।
তারা:
ব্রিটেনে আক্রমণ করেন
ফ্রান্সে অভিযান চালান
আইসল্যান্ডে বসতি স্থাপন করেন
গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছান
উত্তর আমেরিকার কিছু অংশেও পৌঁছেছিলেন বলে ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায়
তাদের জাহাজ নির্মাণ প্রযুক্তি সে সময়ের অন্যতম উন্নত ছিল।
অধ্যায়–৩০
চীনের তাং রাজবংশ
এই সময়ে চীনও সমৃদ্ধির শীর্ষে ছিল।
উল্লেখযোগ্য সাফল্য:
মুদ্রণ প্রযুক্তির উন্নয়ন
কাগজ উৎপাদনের বিস্তার
রেশম বাণিজ্যের সম্প্রসারণ
কবিতা ও শিল্পকলার বিকাশ
চীনের রাজধানী চাংআন ছিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শহর।
অধ্যায়–৩১
ভারতীয় উপমহাদেশ
ভারতে পাল, রাষ্ট্রকূট ও অন্যান্য রাজবংশের উত্থান ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ, বিশেষ করে নালন্দা, শিক্ষা ও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এখানে এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থীরা পড়তে আসতেন।
অধ্যায়–৩২
১০০০ সালের পূর্বে বিশ্বের অবস্থা
১০০০ সালের কাছাকাছি সময়ে বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলো ছিল:
আব্বাসীয় খেলাফত
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য
তাং-পরবর্তী চীনা রাজবংশ
ইউরোপের বিভিন্ন খ্রিস্টান রাজ্য
বাণিজ্য, জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বিশ্বকে আরও সংযুক্ত করে তুলছিল।
খণ্ড–৩ এর সারাংশ
৭৫০–১০০০ খ্রিস্টাব্দ ছিল জ্ঞান, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ যুগ। বাগদাদ বিশ্বের অন্যতম প্রধান শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়, মুসলিম পণ্ডিতরা বিজ্ঞানে অসাধারণ অবদান রাখেন, ইউরোপে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটে এবং ভাইকিংরা সমুদ্রপথে নতুন অঞ্চল আবিষ্কার ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখে।