বিজ্ঞাপন আন্তর্জাতিক সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র 🛒 দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় সকল সুন্নতী সামগ্রী পেতে ভিজিট করুন 🛒 SUNNAT.INFO সরাসরি কল করুন 📞01782 255 244 সারাদেশে 🚚 ক্যাশ-অন ডেলিভারীর ব্যবস্থা।
তারিখ লোড হচ্ছে...
00
:
00
:
00
AM
UCP-NEWS পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম! প্রচারেই প্রসার - আপনার ব্যবসা, প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির বিজ্ঞাপন দিন স্বল্প খরচে 01767222187

অধ্যায়–৩ পৃথিবীর জন্ম

 

অধ্যায়–৩

পৃথিবীর জন্ম

Image

Image

Image

Image

Image

Image

ভূমিকা

সৌরজগতের সৃষ্টি সম্পন্ন হওয়ার পর ধীরে ধীরে গঠিত হয় পৃথিবী—আমাদের বাসযোগ্য গ্রহ। আজ থেকে প্রায় ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর আগে অসংখ্য শিলাখণ্ড, ধাতব কণা এবং মহাজাগতিক বস্তু একত্রিত হয়ে পৃথিবীর জন্ম দেয়। তবে সেই সময়ের পৃথিবী আজকের মতো শান্ত, সবুজ ও প্রাণবৈচিত্র্যে ভরপুর ছিল না। এটি ছিল অগ্নিগর্ভ, উত্তপ্ত এবং ক্রমাগত পরিবর্তনশীল একটি গ্রহ।

পৃথিবীর জন্মের ইতিহাস বোঝা আমাদের জানায় কীভাবে একটি উত্তপ্ত শিলাময় গ্রহ ধীরে ধীরে জীবনের উপযোগী পরিবেশে পরিণত হলো।


পৃথিবীর গঠন

সৌরজগতের নবীন পর্যায়ে সূর্যের চারপাশে ঘূর্ণায়মান ধূলিকণা ও শিলাখণ্ড বারবার সংঘর্ষের মাধ্যমে বড় হতে থাকে। এই প্রক্রিয়াকে অ্যাক্রিশন (Accretion) বলা হয়।

লক্ষ লক্ষ বছরের সংঘর্ষের ফলে একটি বৃহৎ শিলাময় বস্তু তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে পৃথিবীতে পরিণত হয়।

এই সংঘর্ষগুলো এত শক্তিশালী ছিল যে নবীন পৃথিবীর অধিকাংশ অংশ গলিত অবস্থায় ছিল।


হেডিয়ান যুগ

পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম ভূতাত্ত্বিক যুগকে হেডিয়ান যুগ (Hadean Eon) বলা হয়। এর সময়কাল আনুমানিক ৪.৫৪ থেকে ৪.০ বিলিয়ন বছর আগে

এই সময়ের বৈশিষ্ট্য ছিল—

  • সর্বত্র লাভা ও গলিত শিলা

  • ঘন ঘন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত

  • উল্কাপিণ্ডের ব্যাপক আঘাত

  • স্থায়ী মহাসাগরের অনুপস্থিতি

  • জীবনের অস্তিত্বের কোনো নিশ্চিত প্রমাণ না পাওয়া

"হেডিয়ান" নামটি এসেছে গ্রিক পুরাণের পাতাললোকের দেবতা হেডিস (Hades)-এর নাম থেকে, কারণ সে সময়ের পৃথিবী ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত ও প্রতিকূল।


পৃথিবীর স্তরবিন্যাস

পৃথিবী গলিত অবস্থায় থাকায় ভারী পদার্থ ধীরে ধীরে কেন্দ্রের দিকে এবং হালকা পদার্থ বাইরের দিকে সরে যায়। এই প্রক্রিয়াকে গ্রহীয় বিভাজন (Planetary Differentiation) বলা হয়।

এর ফলে পৃথিবী চারটি প্রধান স্তরে বিভক্ত হয়—

  1. অভ্যন্তরীণ কেন্দ্র (Inner Core) — প্রধানত লোহা ও নিকেল; কঠিন অবস্থা।

  2. বহিঃকেন্দ্র (Outer Core) — গলিত লোহা ও নিকেল; পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

  3. ম্যান্টল (Mantle) — উত্তপ্ত শিলা দ্বারা গঠিত; ধীরে ধীরে প্রবাহিত হয়।

  4. ভূত্বক (Crust) — সবচেয়ে বাইরের কঠিন স্তর, যেখানে মহাদেশ ও মহাসাগরের তলদেশ অবস্থিত।


পৃথিবীর শীতল হওয়া

প্রথমদিকে পৃথিবীর পৃষ্ঠ ছিল গলিত শিলায় আচ্ছাদিত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মহাকাশে তাপ বিকিরণের মাধ্যমে পৃথিবী ধীরে ধীরে শীতল হতে থাকে।

এই শীতলতার ফলে—

  • প্রথম কঠিন শিলা তৈরি হয়।

  • স্থায়ী ভূত্বকের গঠন শুরু হয়।

  • পরবর্তীকালে মহাদেশ ও মহাসাগরের ভিত্তি তৈরি হয়।


বায়ুমণ্ডলের সূচনা

প্রথম পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল বর্তমানের মতো ছিল না।

আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে নির্গত গ্যাসের মাধ্যমে প্রাথমিক বায়ুমণ্ডল গঠিত হয়। এতে ছিল—

  • জলীয় বাষ্প

  • কার্বন ডাই-অক্সাইড

  • নাইট্রোজেন

  • সালফারযুক্ত গ্যাস

সে সময় বায়ুমণ্ডলে মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য প্রয়োজনীয় মুক্ত অক্সিজেন প্রায় ছিল না।


উল্কাবৃষ্টি ও মহাজাগতিক আঘাত

পৃথিবীর জন্মের পর প্রথম কয়েকশো মিলিয়ন বছর ধরে সৌরজগতের অসংখ্য শিলাখণ্ড ও উল্কাপিণ্ড পৃথিবীতে আঘাত হানতে থাকে।

এই সময়কে Late Heavy Bombardment নামে পরিচিত একটি সম্ভাব্য পর্যায়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। যদিও এর সুনির্দিষ্ট মাত্রা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো গবেষণা চলছে।

এই আঘাতগুলো পৃথিবীর পৃষ্ঠকে বারবার পরিবর্তন করেছে এবং পরবর্তী ভূতাত্ত্বিক বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।


পৃথিবী কেন বিশেষ?

সৌরজগতের অনেক গ্রহ থাকলেও পৃথিবীর কয়েকটি বৈশিষ্ট্য তাকে অনন্য করে তুলেছে—

  • সূর্য থেকে উপযুক্ত দূরত্ব

  • দীর্ঘমেয়াদি তরল পানির উপস্থিতি

  • শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র

  • স্থিতিশীল কক্ষপথ

  • সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া

এই বৈশিষ্ট্যগুলোর সম্মিলিত ফলেই পৃথিবীতে পরবর্তীকালে জীবনের বিকাশ সম্ভব হয়েছে।


তথ্যবক্স

  • পৃথিবীর আনুমানিক বয়স: ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর

  • ব্যাস: প্রায় ১২,৭৪২ কিলোমিটার

  • সূর্য থেকে গড় দূরত্ব: প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার

  • পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ: চাঁদ


অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ

প্রায় ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর আগে সৌরজগতের গ্যাস, ধূলিকণা ও শিলাখণ্ডের সংঘর্ষ থেকে পৃথিবীর জন্ম হয়। শুরুতে এটি ছিল উত্তপ্ত ও গলিত একটি গ্রহ। ধীরে ধীরে শীতল হয়ে ভূত্বক, ম্যান্টল, কেন্দ্র এবং প্রাথমিক বায়ুমণ্ডলের সৃষ্টি হয়। এই দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক বিবর্তনই পরবর্তীকালে পৃথিবীকে জীবনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশে রূপান্তরিত করে।


পরবর্তী অধ্যায়:
অধ্যায়–৪ : চাঁদের উৎপত্তি