বিজ্ঞাপন আন্তর্জাতিক সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র 🛒 দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় সকল সুন্নতী সামগ্রী পেতে ভিজিট করুন 🛒 SUNNAT.INFO সরাসরি কল করুন 📞01782 255 244 সারাদেশে 🚚 ক্যাশ-অন ডেলিভারীর ব্যবস্থা।
তারিখ লোড হচ্ছে...
00
:
00
:
00
AM
UCP-NEWS পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম! প্রচারেই প্রসার - আপনার ব্যবসা, প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির বিজ্ঞাপন দিন স্বল্প খরচে 01767222187

মহাবিশ্বের সৃষ্টি - অধ্যায়–২ সৌরজগতের সৃষ্টি

 

অধ্যায়–২

সৌরজগতের সৃষ্টি

Image

Image

Image

Image

Image

Image

ভূমিকা

রাতের আকাশে সূর্য, চাঁদ ও গ্রহ-নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে মানুষ বহু হাজার বছর ধরে তাদের উৎস সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশ অনুসন্ধানের মাধ্যমে আজ আমরা সৌরজগতের গঠন সম্পর্কে অনেক তথ্য জানতে পেরেছি।

বর্তমানে বিজ্ঞানীদের মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হলো সৌর নীহারিকা তত্ত্ব (Solar Nebular Theory)। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে একটি বিশাল গ্যাস ও ধূলিকণার মেঘ থেকে সূর্য এবং তার চারপাশের গ্রহগুলোর সৃষ্টি হয়।


সৌরজগত কী?

সৌরজগত (Solar System) হলো সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত সব মহাজাগতিক বস্তুর সমষ্টি।

এর মধ্যে রয়েছে—

  • সূর্য

  • আটটি গ্রহ

  • বামন গ্রহ

  • উপগ্রহ

  • গ্রহাণু

  • ধূমকেতু

  • উল্কাপিণ্ড

  • কুইপার বেল্ট

  • ওর্ট মেঘ

সৌরজগত আকাশগঙ্গা (Milky Way) গ্যালাক্সির একটি ক্ষুদ্র অংশ।


সৌর নীহারিকার জন্ম

প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে আকাশগঙ্গার একটি অঞ্চলে বিশাল গ্যাস ও ধূলিকণার মেঘ ছিল, যাকে সৌর নীহারিকা বলা হয়।

এই মেঘের প্রধান উপাদান ছিল—

  • হাইড্রোজেন

  • হিলিয়াম

  • অল্প পরিমাণ ভারী মৌল

কোনো নিকটবর্তী সুপারনোভার অভিঘাত বা মহাকর্ষীয় অস্থিতিশীলতার কারণে এই মেঘ সংকুচিত হতে শুরু করে।


সূর্যের জন্ম

সংকোচনের ফলে অধিকাংশ পদার্থ কেন্দ্রে জমা হতে থাকে। কেন্দ্রের তাপমাত্রা ও চাপ এত বেশি হয়ে যায় যে সেখানে নিউক্লিয়ার ফিউশন শুরু হয়।

এই প্রক্রিয়ায় হাইড্রোজেন পরমাণু মিলিত হয়ে হিলিয়ামে রূপান্তরিত হতে থাকে এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়।

এভাবেই সূর্যের জন্ম হয়।

আজও সূর্য একই প্রক্রিয়ায় আলো ও তাপ উৎপন্ন করছে।


গ্রহগুলোর সৃষ্টি

সূর্যের চারপাশে অবশিষ্ট গ্যাস ও ধূলিকণা একটি ঘূর্ণায়মান চাকতির (Protoplanetary Disk) আকার ধারণ করে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছোট ছোট কণাগুলো সংঘর্ষের মাধ্যমে বড় হতে থাকে।

ধীরে ধীরে তৈরি হয়—

  • শিলাময় গ্রহ

  • গ্যাসীয় দৈত্য গ্রহ

  • বরফসমৃদ্ধ বস্তু

  • গ্রহাণু

এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে কয়েক কোটি বছর সময় লাগে।


অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত গ্রহ

সূর্যের কাছাকাছি অঞ্চল ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত। ফলে সেখানে গ্যাস টিকে থাকতে পারেনি এবং শিলা ও ধাতু দিয়ে ছোট গ্রহ গঠিত হয়।

এগুলো হলো—

  • বুধ

  • শুক্র

  • পৃথিবী

  • মঙ্গল

অন্যদিকে দূরের শীতল অঞ্চলে গ্যাস ও বরফ জমে বিশাল গ্রহ তৈরি হয়—

  • বৃহস্পতি

  • শনি

  • ইউরেনাস

  • নেপচুন


গ্রহাণুপুঞ্জ

মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝখানে রয়েছে গ্রহাণুপুঞ্জ (Asteroid Belt)

এখানে লক্ষ লক্ষ ছোট-বড় শিলাময় বস্তু রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, বৃহস্পতির শক্তিশালী মহাকর্ষের কারণে এখানকার পদার্থগুলো একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রহে পরিণত হতে পারেনি।


ধূমকেতু ও কুইপার বেল্ট

নেপচুনের বাইরের অঞ্চলে রয়েছে কুইপার বেল্ট, যেখানে অসংখ্য বরফসমৃদ্ধ বস্তু রয়েছে।

এরও অনেক দূরে রয়েছে ওর্ট মেঘ, যেখান থেকে দীর্ঘ-পথের অনেক ধূমকেতু সৌরজগতের ভেতরে প্রবেশ করে।

ধূমকেতু সূর্যের কাছে এলে তাপের কারণে এর বরফ বাষ্পে পরিণত হয় এবং একটি উজ্জ্বল লেজ সৃষ্টি হয়।


সৌরজগতের প্রধান সদস্য

মহাজাগতিক বস্তুসংখ্যা
সূর্য
গ্রহ
স্বীকৃত বামন গ্রহ
পরিচিত উপগ্রহ২০০-এর বেশি
গ্রহাণুলক্ষ লক্ষ
ধূমকেতুহাজার হাজার

দ্রষ্টব্য: নতুন আবিষ্কারের ফলে উপগ্রহ, গ্রহাণু ও ধূমকেতুর সংখ্যা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।


সৌরজগতের গুরুত্ব

সৌরজগতের সৃষ্টি বোঝা শুধু পৃথিবীর ইতিহাস জানার জন্য নয়, বরং মহাবিশ্বে অন্য নক্ষত্রের চারপাশে গ্রহ কীভাবে গঠিত হয়, তা বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা হাজার হাজার বহিঃগ্রহ (Exoplanet) আবিষ্কার করেছেন, যা প্রমাণ করে যে গ্রহের সৃষ্টি মহাবিশ্বে একটি সাধারণ প্রক্রিয়া হতে পারে।


তথ্যবক্স

  • সৌরজগতের আনুমানিক বয়স: ৪.৬ বিলিয়ন বছর

  • সূর্যের ভর: সৌরজগতের মোট ভরের প্রায় ৯৯.৮%

  • পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্ব: প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার

  • সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে সময় লাগে: প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড


অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ

প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে একটি বিশাল গ্যাস ও ধূলিকণার মেঘ থেকে সৌরজগতের সৃষ্টি হয়। কেন্দ্রে সূর্যের জন্ম হয় এবং তার চারপাশের ঘূর্ণায়মান চাকতি থেকে ধাপে ধাপে গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণু ও ধূমকেতুর সৃষ্টি হয়। এই গঠনপ্রক্রিয়ার ফলেই পৃথিবী এমন একটি গ্রহে পরিণত হয়, যেখানে পরবর্তীকালে জীবনের বিকাশ সম্ভব হয়েছে।


পরবর্তী অধ্যায়:
অধ্যায়–৩ : পৃথিবীর জন্ম