Monday, October 24, 2022

আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীনের কিছু অলংঘনীয় বিধানসমূহ

আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীনের কিছু অলংঘনীয় বিধানসমূহে একটি অন্যতম বিধান হলো, তিনি জালেম মুসলমানের বিপক্ষে মজলুম কাফের কেউ সাহায্য করেন। অর্থাৎ যার উপরে অত্যাচার করা হয়েছে সে যদি কাফের হয়, আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন অত্যাচারী মুসলিমের

বিরুদ্ধে চলে যান। কারণ পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষকে আল্লাহ পাক অত্যন্ত ভালোবেসে সৃষ্টি করেছেন। হোক সে হিন্দু, হোক সে মুসলিম, হোক সে খ্রিস্টান। তার উপরে অন্যায়ভাবে জুলুম হলে আল্লাহপাক সেটা সহ্য করতে পারেন না। তবুও তিনি জালেমকে কোন ছাড় দেন না, হোক সে মুসলিম। জুলুমের শাস্তি এত ভয়াবহ ও দ্রুত যে দুনিয়া থেকে এর সূচনা হয়। আখেরাতে এর পরিনতী কতো মারাত্মক ও ভয়াবহ তা স্বয়ং এক আল্লাহ পাকই জানেন।


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এই অন্যায় থেকে আমাদের প্রত্যেককে বিরত থাকার পাশাপাশি, মজলুম ব্যক্তির প্রার্থনার শক্তি সম্পর্কেও সচেতন করেছেন। আমাদের রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন, মজলুমের বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকো। সাবধান! যদিও সে কাফের হয়, তার বদদোয়া আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন সরাসরি কবুল করেন।

 

সৃষ্টির শুরু থেকে আল্লাহ পাক কিছু নীতিমালা নির্ধারণ করে রেখেছেন। পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে অনেক উত্থান-পতনের ঘটনা ঘটেছে কিন্তু এসব নীতিমালায় কোনো পরিবর্তন হয়নি তার। যুগে যুগে তার এমন অমোঘ বিধি-বিধান এবং নির্দেশনাসমূহের বাস্তবায়ন লিপিবদ্ধ হয়ে আছে পৃথিবীর ইতিহাসে।

যে কয়েকটি বিষয় আল্লাহ পাক নিজের জন্যও নিষিদ্ধ করে রেখেছেন- সেসবের মধ্যে সর্বপ্রথম বিষয়টি হচ্ছে, জুলম বা অন্যায়।

মুসলিম শরীফের বর্ণিত হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ পাক আমাদের লক্ষ্য করে বলছেন, হে আমার বান্দারা! আমি নিজেই আমার ক্ষেত্রে জুলম হারাম করে নিয়েছি ও এবিষয়টিকে তোমাদের পরস্পরের জন্যও নিষিদ্ধ করে দিলাম। তোমরা একে অপরের ওপর জুলম করো না।

আজকের সমাজ জীবনে একেবারে সাধারণ বিষয়ে একে অন্যের ওপর বিরাজমান জুলম করা কিংবা সমাজের বৃত্তবান লোকের দ্বারা সাধারণ মানুষের উপরে জুলুম করা। প্রতিবেশি সাহসী এবং শক্তিশালী হওয়ার কারণে, দুর্বল প্রতিবেশির উপর জুলুম করা। বড় ভাই বা ছোট ভাই শক্তিশালী হওয়ার কারণে ছোট ভাইয়ের উপরে জুলুম করা।

অথবা পরিবারের অন্যকোন সদস্যদের উপরে শক্তিমানদের জুলুম করা। এ যাবতীয় জুলুমই বড় ধরণের অমার্জণীয় অপরাধ।

এর কঠিন শাস্তি ও পরিণতির প্রতি সতর্ক করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা জুলম বা অন্যায় করা থেকে বিরত থাকো। এই জুলম কিয়ামতের দিন ঘোর অন্ধকার হয়ে দেখা দিবে। (মুসলিম)

সুপ্রিয় আলোর পথের যাত্রীবৃন্দ আজ আপনাদের জন্য, জুলুম এবং অত্যাচার থেকে বাচতে চমৎকার কিছু দোয়া নিয়ে হাজির হয়েছি। ইনশাআল্লাহ আমরা এগুলোর উপরে সবাই আমল করার চেষ্টা করবো।

বিপদ-আপদ, দুঃখ-বেদনা ইত্যাদি মানুষের উপর আসে, কিছু বিপদ আছে, যা আল্লাহর পক্ষ হতে পরীক্ষামূলক বান্দার উপর পতিত হয়। আর কিছু বিপদ-আপদ আছে যেগুলো একে অপরের ক্ষতির জন্য করে থাকে, এসব পরিস্থিতিতে মানুষের ধৈর্য ধারণ করা উচিত। বিপদাপদে কিভাবে সাহায্য চাইতে হবে আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তা শিখিয়ে দিয়েছেন। সুরা ইউনুস এর আয়াত ৮৫ এবং ৮৬ তে আল্লাহপাক অত্যন্ত সুন্দরভাবে বলেছিলেন,

রাব্বানা লাতাজাআলানা ফিতনাতাললিল কাওমিজ জুয়ালিমিন ওয়া নাজ্জিনা বিরাহমাতিকা মিনাল কাওমিল কাফিরিন।

অর্থাৎ হে আমাদের পালনকর্তা আমাদের উপর এ জালেম কওমের শক্তি পরীক্ষা করিও না। আর আমাদেরকে অনুগ্রহ করে ছাড়িয়ে দাও এই কাফেরদের কবল থেকে। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম এর প্রতি ঈমান আনয়ন করার পর, ফেরাউন বনি ইসরাইলের উপর জুলুম অত্যাচার শুরু করে। তারা এ বিষয়ে মুসা আলাইহিস সালামকে অবহিত করলে, মুসা আলাহিস সালাম আল্লাহর উপর ভরসা করতে বলেন। তখন বনি ইসরাইল সম্প্রদায় আল্লাহর উপর ভরসা করেন।

আল্লাহ বনি ইসরাইলের সম্প্রদায়কে ফিরাউনের ভয়াবহ জুলুম থেকে হিফাজত করেন এবং ফিরাউনকে তার দলবল সহ নীলনদে ডুবিয়ে মারেন।

এখনো মানুষ মানুষের উপর অন্যায় ভাবে অত্যাচার জুলুম করে থাকে। সব ধরনের অত্যাচারে আল্লাহর কাছে কোরআনের এই আয়াত এর মাধ্যমে দোয়া করা যেতে পারে। যাতে করে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াবী অন্যায় অত্যাচার জুলুম নির্যাতন থেকে হিফাযত করনে।

যাবতীয় বিপদ ও মুসিবত দূর করে দেন। কেননা আল্লাহ তায়ালা ফেরাউনের কবল থেকে বনি ইসরাইল জাতিকে হেফাজত করেন। যাতে রয়েছে আমাদের জন্য অনেক শিক্ষণীয় বিষয়। তাই আপনার পার্শ্ববর্তী কেউ আপনার উপর জুলুম করছে আপনার বস আপনার সাথে জুলুম করছে, এমনকি পারিবারিকভাবেও পরিবারের অন্য কেউ আপনার সাথে জুলুম করেছে, হোক জুলুম! যে রকমই হোক না কেন, যারা দ্বারাই হোক না কেন, দিন থেকে আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীনের কাছে সাহায্য চেয়ে যান। তবে অবশ্যই মনে রাখবেন, আল্লাহর কাছে জুলুম কারী ব্যাক্তির জন্য হেদায়েত চাইবেন। কখনো তার ধ্বংস প্রথমেই যাইবেন না। যদি একান্তই তার নসিবে হেদায়েত না থাকে, তাহলে আপনি এক পর্যায়ে ধ্বংস চেতে পারেন।

তবে দোয়ার ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, যেন আমরা সকলে এ দোয়া করি, হে আল্লাহ আপনি যে ব্যক্তি আমার ওপর জুলুম করছে, তার নসিবে হেদায়েত থাকলে তাকে হেদায়েত করে সরল-সঠিক পথ দান করুন। কেননা এই পৃথিবীতে কোন মানুষ জাহান্নামি হোক তা আমি চাইনা। আপনি তো কলবের পরিবর্তনকারী, আল্লাহ আপনি তার অন্তরকে পরিবর্তন করে দিন। হে আল্লাহ যদি সে আমার ওপর নির্যাতন বন্ধ না করে যদি তার নসিবে হেদায়েত না থাকে, তবে আমাকে এই বিপদ থেকে মুক্তি দান করতে আপনি তাকে সরিয়ে নিয়ে যাই হোক।

যাই হোক সুরা ইউনুসের ৮৫ এবং ৮৬ নং যে আয়াতটি আমরা কিছুক্ষণ আগে তিলাওয়াত করেছিলাম, এবং ‍জুলুমের জন্য আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে যে আয়াতটি তিলাওয়াত করে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে বলেছিলেন এর আমল আমরা প্রত্যেক নামাযের পর পাঠ করবো।

সুরা ফালাক, সুরা নাস, সুরা ইখলাছ সকাল বিকাল ৩ বার পাঠ করবো।

ইনশাআল্লাহ  আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন আমাদের যাবতীয় জুলুম থেকে হিফাজত করুন, আমিন।

 ভালোবাসার কত গল্পইতো পৃথিবীতে রয়েছে, লাইলী-মজনু, শিরি-ফরহাদ. ইউসুফ-জুলেখা, হ্যা ব্যক্তিগত জীবনেও আমরা আমাদের ভালোবাসার মানুষটি আমাদের কতটা ভালোবাসেন, কত পরীক্ষা-নিরিক্ষার মাধ্যমেই তো যাচাই করছি।

আচ্ছা কখনও কি আমরা এমনটা যাচাই করেছি যে, আমাদের সৃষ্টিকর্তা আমাদের প্রভু মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে ভালবাসেন?

আসুন আজ আমরা যাচাই করবো আল্লাহ কি সত্যি আমাকে ভালোবাসেন?

যদি আল্লাহু সুবহানা ওয়া তায়ালা কোন ব্যক্তিকে ভালোবাসেন তখন তিনি জিবরাঈল আলাইহিস সালাম কে ডেকে বলেনঃ “আমি আল্লাহ এ ব্যক্তিকে অনেক ভালোবাসি, এখন তুমিও একে ভালোবাসো। ফলে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাকে ভালোবাসতে শুরু করেন এবং আকাশের অধিবাসীদের ঘোষণা দেনঃ এ ব্যক্তিকে আল্লাহ অনেক ভালোবাসেন এখন থেকে তোমরাও একে ভালোবাসো।

অতঃপর তারাও তাকে ভালোবাসতে শুরু করে। এরপর পৃথিবীর মানুষও এ ব্যক্তিকে ভালোবাসতে শুরু করে"। বিশ্বজুড়ে শুরু হয়, এই ভালোবাসার খেলা। আর এই পৃথিবীতে সেই ভালোবাসার শ্রেষ্টত্তর অধিকারী ছিলেন হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এটি হচ্ছে কোন মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা সৃষ্টি হওয়ার ইসলামের মূলনীতি।

এমনকি এই মূলনীতির আলোকে আল্লাহ আমাদের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা প্রদর্শন করেন। মাঝেমাঝে আমরা প্রায় মনে মনে নিজেরদের প্রশ্ন করি- আল্লাহ কি আমাকে ভালোবাসেন? সত্যিই কি আল্লাহ জিবরাঈল আলাইহিস সালাম কে বলেন – সত্যি তিনি কি আমাকে ভালোবাসে? সত্যিই আল্লাহ আমাদের অনেক ভালোবাসেন।

বিশ্বাস করুন, বান্দার প্রতি আল্লাহর ভালোবাসার নমুনাস্বরূপ কিছু আয়াত আপনাদের সামনে উপস্থাপনা করছি। সুরা বাক্বারায় আল্লাহ বলেন, "আল্লাহ তার বান্দার সহজ চান"-কোরআনে আল্লাহ আরো বলেন "আল্লাহ মানুষকে সর্বোত্তম গঠনে সৃষ্টি করেছেন"-আল্লাহ আরও বলেন, "আল্লাহ আমাদের সর্বোত্তম ভালো চান এবং আমাদের জন্য যা কল্যাণকর তাই তিনি করেন"। আল্লাহ তার সৃষ্টির ব্যাপারে সর্বোচ্চ ও অতুলনীয়ভাবে মনোযোগী। (আল্লাহু আকবর)

আল্লাহর এই ভালোবাসা পেতে হলে আমাদের কি করণীয়? কি গুণ আমাদের থাকতে হবে? আর থাকলেও তা কি আমাদের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণে আছে? আল্লাহর ভালোবাসা সম্পর্কিত এই ধরণের আরো কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরে আমাদের কোন কোন বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে তা আজ আলোচনা করছি।

১-আপনি কি সর্বোচ্চ অনুসরণীয় ব্যক্তি রাসুল পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে অনুসরণ করছেন? আল্লাহ আমাদের জীবনধারণ, চলাফেরা, আধ্যাত্মিক বিষয়ে তার পছন্দের পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। আর তার দেখানো পথটি হচ্ছে রাসুল পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাতের পথের অনুসরণ, যেখানে আমাদের সর্বোত্তম কল্যাণ নিহিত রয়েছে। যারা আল্লাহর প্রেরিত শেষ নবী হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পথে নিজেদের পরিচালিত করে, তারা আল্লাহর পথেই আছে।

আর আল্লাহ তাদেরকেই ভালোবাসেন, যে তার দেখানো পথে চলে। "হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলঃ যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন। তিনি তোমাদের গুনাহ মাফ করে দিবেন। আল্লাহ সর্বোচ্চ ক্ষমাশীল ও অতি দয়ালু" সুরা আল-ঈমরান আয়াত ৩১।

তৃতীয়ত আপনি সৎকাজ করতে কতটুকু মনযোগী? আপনি কি মডেলের গাড়ি ব্যবহার করেন, তা আল্লাহ দেখবেন না, কিন্তু তিনি আপনি কীভাবে রাগ নিয়ন্ত্রণ করেন তা দেখেন। আল্লাহ আপনার বাড়ি কতটুকু জায়গা জুড়ে আছে তা দেখবেন না কিন্তু দানের ব্যাপারে আপনি কতটুকু মহৎ তা কিন্তু ঠিকিই দেখবেন। আল্লাহ আপনার বেতনের অঙ্কের পরিমাণ দেখবেন না কিন্তু আপনার চরিত্রের পরিমাণ দেখবেন। আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন। "যারা সৎকর্ম অগ্রগামী যেমন: সুসময়ে ও দুঃসময়ে দান করে এবং রাগ নিয়ন্ত্রণ করে ও মানুষকে ক্ষমা করে। নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন"

আপনি কি ইসলামের উপর অবিচল? আপনি দুইটি বিষয়ের মুখোমুখি, যেকোনো একটি গ্রহণ করতে হবে - বিষয়টি সঠিক কিন্তু অবিচল থাকা কঠিন, অথবা বিষয়টি সহজ কিন্তু ভুল। আপনাকে অবশ্যই সঠিক বিষয়টি গ্রহণ করতে হবে, কঠিন পরিস্থিতিতে সঠিক পথের উপর অবিচল থাকতে আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে। আপনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে একেবারে পরিশ্রান্ত তবুও এর প্রতিষ্ঠায় আপনাকে অবিচল থাকতে হবে।

হয়ত আপনার জীবন আপনার কাছে মূল্যবান, কিন্তু তা কোরবানি করতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। কিন্তু আপনাকে ধৈর্যের সাথে লেগে থাকতে হবে, কখনো আল্লাহর দেওয়া দায়িত্বে অবহেলা করতে পারবেন না। 'আল্লাহর ভালোবাসা পেতে হলে ধৈর্য ধরুন' "আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন"- সুরা আল-ঈমরান :১৪৬ নং আয়াত।

আপনি কি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করেন? যারা আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল বা (ভরসা) করে তারা যখন ক্ষতি ও কষ্টের সম্মুখীন হয়, তখন তারা মনে করিয়ে দেয় এটার আল্লাহর পরিকল্পনা। যারা আল্লাহ-তে ভরসা করে- তারা বিশ্বাস করে তাদের দোয়া আজ হোক কাল অবশ্য কবুল হবে। যারা আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে তারা কখনো আশা হারায় না। আল্লাহর ভালোবাসার পাত্র হতে হলে, আল্লাহতে দৃঢ় বিশ্বাসী হোন! নিশ্চয় যারা আল্লাহর উপর ভরসা করেন, তিনি তাদের ভালোবাসেন। আপনি কি ন্যায়পরায়ণ, যারা ন্যয়পরায়ণ তারা কখনও অহংকার বশতঃ অন্যের সাথে ভাষা ও সংস্কৃতির বৈষম্য দেখায় না। তারা হয়তো কাউকে অপছন্দ করে তবুও তার ন্যায্য অধিকার আদায় করে । তারা সত্যের পথে এমনকি এই সত্য তার জন্য ক্ষতিকর হলে অটুট ভাবে সমর্পণ করে যায়, মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত।

আল্লাহর ভালোবাসা পেতে ন্যায়ের অবস্থানে থাকুন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায় পরায়ণদের ভালোবাসেন। আপনি কি অতিরিক্ত কিছু ভালো কাজ করেন?  হুযুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, আল্লাহ বলেন বান্দা তার উপর অর্পিত ফরজ কাজ আদায় করার মাধ্যমে আমার নিকট চলে আসে। এছাড়া বান্দা যখন আমার পছন্দনীয় নফল কাজ করে তখন সে আমার আরও অধিক নিকটবর্তী হয়।

তখন তার কান আমার কান হয়ে যায়, যা দিয়ে সে শোনে। তার দৃষ্টি আমার দৃষ্টি, যা দিয়ে সে দেখে, তার হাত আমার হাত হয়ে যায়, তার পা আমার পা হয়ে যায়, যা দিয়ে সে হাটে। সে যা চায় আমি তা দান করি, সে যদি সুরক্ষা চায়, আমি তাকে সুরক্ষীত করি- সহীহ বুখারী।

আল্লাহ আপনার নফল কাজে খুশি হয়ে বেশি ভালোবাসবেন। ফলাফলে বলতে পারি উপরে আলোচিত অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তর আপনার ক্ষেত্রে হ্যা হয়, তাহলে আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের ক্ষেত্রে আপনার সুযোগগুলো যেনে রাখুন, তিনি আপনাকে অবশ্যই ভালোবাসেন। আপনি এগিয়ে যান এবং আপনার মনে এ সফলতা যেন অন্যের চেয়ে নিজেকে উত্তম ভাবার অনুভূতি না সৃষ্টি করে।

সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন, আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, তিনি যেন আপনাকে ভালোবাসেন, এবং তার পথে পরিচালিত করেন, তাদের জন্য দোয়া করুন যারা আল্লাহর ভালোবাসা অর্জণের চেষ্টার করে যাচ্ছে।

যদি উপরের অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তর আপনার জন্য না হয়, তাহলে দোয়া করুন, আল্লাহ যেন আমাদের জন্য যা উত্তম তাই করেন এবং তিনি যেন আমাদের হেদায়েত দেওয়ার মাধ্যমেই তার ভালোবাসার পাত্র হওয়ার সুযোগ দেন। যাতে আমাদের অবস্থান থেকে আরও ভালো হতে পারি। যাতে আরও বেশি শান্তিপ্রিয় হতে পারি।

আমরা এভাবে আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য উত্তম কিছু এবং তার ভালোবাসা অর্জন করতে দোয়া করবো। ইনশাআল্লাহ,

আল্লাহ যেন তার পথে আমাদের অবিচল রাখেন। আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনে আমাদের পরিপূর্ণতা অর্জনের প্রয়োজন নেই, তবে যা আমাদের কল্যাণকর তাই চাইবো তার কাছে, যিনি অত্যান্ত ক্ষমাশীল এবং প্রেমময়।

সর্বশেষ একটি হাদিস দিয়ে শেষ করছি। আবু দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ খুব ভালোবাসেন, তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে হাসেন এবং তাদের কারণে খুশি হন।

প্রথমত সেই ব্যক্তি যার নিকট স্বদলের পরাজয় প্রকাশ পেলেও নিজের জান কুরবানী দিয়ে আল্লাহ আযযাহ অজাল্লার ওয়াস্তে যুদ্ধ করে। এতে সে শহীদ হয় অথবা আল্লাহ তাকে সাহায্য দান করে বিজয়ী করেন ও তিনিই তার জন্য যথেষ্ট হন।

তখন আল্লাহ বলেন, আমার এই বান্দাকে তোমরা লক্ষ্য করো, আমার জন্য নিজের প্রাণ দিয়ে কেমন ধৈয্য ধরেছে।

দ্বিতীয়ত সেই ব্যক্তি যার আছে সুন্দরী স্ত্রী এবং নরম ও সুন্দর বিছানা, কিন্তু সে এসব ত্যাগ করে রাত্রে উঠে নামাজ পরে। এর জন্য আল্লাহ বলেন, সে নিজের প্রবৃত্তিকে দমন করে আমাকে স্মরণ করছে। অথচ ইচ্ছা করলে সে নিদ্রা উপভোগ করতে পারতো।

আর তৃতীয় সেই ব্যক্তি যে, সফরে থাকে, তার সঙ্গে থাকে কাফেলা। কিছু রাত্রি জাগরণ করে সকলে ঘুমে ঢলে পরে, কিন্তু সে শেষরাত্রে উঠে কষ্ট ও আরামের সময় নামাজ পড়ে- সুবহানআল্লাহ

আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন আমাদের এ তিন জাতের যে কোন  এক ধরণের মানুষ হবার সৌভাগ্য দান করুন- আমিন।

Sunday, October 23, 2022

Sofor | সফর নিয়ে ঘটনা


আনাস ইবনে মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আরবরা সফরে বের হলে একে অপরের খেদমত করত। আবু বক্বর ও উমর রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এর সাথে একজন খাদেম ছিল। একবার সফর অবস্থায় ঘুম থেকে তারা উভয় জাগ্রত হয়ে দেখলেন যে, খাদেম তাদের জন্য খাওয়া প্রস্তুত করেন নি। তখন তারা পরস্পরকে বললেন দেখ ঐ ব্যক্তিটি বাড়ির ঘুমের মত ঘুমাচ্ছে। অর্থাঃ এমনভাবে নিদ্রায় বিভোর যে, মনে হচ্ছে সে বাড়ীতে রয়েছে। সফরে নয়। আমরা এখানে খুধার্থ বসে আছি, এখনও খাবার প্রস্তুত হয়নি। অতপর তারা তাদের জাগিয়ে দিয়ে বললেন, যাও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে যাও এবং বলো আবু বক্বর ও উমর রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আপনাকে সালাম দিয়েছেন, এবং আপনার কাছে তরকারি চেয়ে পাঠিয়েছেন, নাস্তা খাওয়ার জন্য। লোকটি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট গেলেন এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে ঘটনা খুলে বললেন।

আল্লাহর রাসুল বললেন, তারা তো তরকারি খেয়েছে। তখন সে লোকটি এসে বললো যে, রাসুল বলেছেন, আপনারা তরকারি খেয়েছেন। তখন তারা খুবি বিস্মিত হলেন এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকটে এসে বললেন, ইয়া রাসুল্লাল্লা আমরা আপনার নিকটে এসে, লোক পাঠালাম তারকারি তলব করতে।

অথচ আপনি বলছেন আমরা তরকারি খেয়েছি। তখন নবী করিম রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললো, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের অর্থাৎ এই খাদেমের যার অনুপস্থিতিতে যার বদনাম করছিলে, তার গোসত খেয়েছ। অতপর ঐ সত্ত্বার কসম যার হাতে আমার প্রাণ নিশ্চয় আমি ঐ খাদেমটির গোসত তোমাদের সামনের দাতের ফাক দিয়ে দেখতে পাচ্ছি।

তারা বললেন, ইয়া রাসুল্লাল্লা আপনি আমাদের জন্য ক্ষমা তলব করুন। আলবানি এই হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, একদা আমরা নবী করিম রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকটে ছিলাম। এমতাবস্থায় একজন ব্যক্তি উঠে চলে গেলো। তার প্রস্থানের পর একজন তার সমালোচনা করলো। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, তোমার দাদ খিলাল করো।

লোকটি বললো কি কারণে দাদ খিলাল করবো? আমি তো কোন গোসত ভক্ষণ করিনি। তখন তিনি বললেন, নিশ্চয় তুমি তোমার ভাইয়ের গোসত ভোক্ষণ করেছো, কারণ তার অনুপস্থিতিতে এতক্ষণ যা বলেছো তা গোসত ভক্ষণ করার মতই। অর্থাৎ গীবত করেছো।

গীবত কবরে শাস্তি ভোগের অন্যতম কারণ। একদা রুসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ তিনি থমকে দাড়ালেন এবং বললেন এই দুই কবরবাসীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। তবে তাদের কে তেমন বড় কোন পদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। যা পালন করা তাদের পক্ষে কষ্টকর ছিল। এদের একজনকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে চোগলখোরী করার কারণে এবং অন্যজনকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে পেশাবের বেপারে অসতর্কতার কারণে। অপর হাদিসে চোগলখোরের পরিবর্তে গীবত করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

গীবত’ অর্থ বিনা প্রয়োজনে কোন ব্যক্তির দোষ অপরের নিকটে উল্লেখ করা। ইবনুল আছীর বলেনঃ গীবত হল কোন মানুষের এমন কিছু বিষয় যা তার অনুপস্থিতিতে উল্লেখ করা, যা সে অপছন্দ করে। যদিও তা তার মধ্যে বিদ্যমান থাকে। এসব সংজ্ঞা মূলত হাদিস হতে নেয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গীবতের পরিচয় দিয়ে বলেনঃ “গীবত হল তোমার ভাইয়ের এমন আচরণ বর্ণনা করা, যা সে খারাপ জানে”। গীবত করার পরিণামঃ গীবত কবীরা গুনাহ্‌র অন্তর্ভুক্ত

 গীবতের পাপ সুদ অপেক্ষা বড়; বরং হাদিসে গীবতকে বড় সুদ বলা হয়েছে রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে-এর নিকটে আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছাফিইয়া রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু -এর সমালোচনা করতে গিয়ে বলেনঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনার জন্য ছাফিইয়ার এরকম এরকম হওয়াই যথেষ্ট। এর দ্বারা তিনি ছাফিইয়ার বেঁটে সাইজ বুঝাতে চেয়েছিলেন।

অর্থাৎ রাসুলের সাথে পারফেক্ট নেই সাফিয়াকে মেচ করেনা। এতটুকু শুনে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ “হে আয়েশা! তুমি এমন কথা বললে, যদি তা সাগরের পানির সঙ্গে মিশানো যেত তবে তার রং তা বদলে দিত”

গীবত জাহান্নামে শাস্তি ভোগের কারণঃ রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  বলেনঃ “মিরাজ কালে আমি এমন কিছু লোকের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম, যাদের নখগুলি পিতলের তৈরি, তারা তা দিয়ে তাদের মুখমণ্ডল ও বক্ষগুলিকে ছিঁড়ছিল।

আমি জিজ্ঞাস করলাম, এরা কারা হে জিবরাইল? জিবরাইল আলাইহিস সালাম বললেন তিনি বললেনঃ এরা তারাই যারা মানুষের গোশত খেত এবং তাদের ইজ্জত-আবরু বিনষ্ট করত”। আল্লাহ্‌ পাক রাব্বুল আলামিন গোপনে গোনাহের মত খেয়ে ফেলা আমাদের সকল আমলকে অন্যতম জঘন্য এ পাপ অর্থাৎ গীবত থেকে রক্ষা করুক আমিন।

 

…………………………………………………………….

মানসিক প্রশান্তি, হৃদয়ের পরিতৃপ্তি, অগাধ সুখ, সকল প্রকার দুশ্চিন্তা আর উৎকণ্ঠা থেকে মুক্তি কে না চায়।

এগুলো ছাড়া আর কি খোঁজে আমরা। মানুষ তো এগুলোই খোঁজে। প্রকৃতপক্ষে সুখী আর পরম আনন্দঘন সুন্দর একটা মানব জীবনের কথা ভাবলে এসবের বাইরে আলো চাওয়ার কিছুই থাকেনা।

এসব অর্জনের জন্য কেউ বা ধর্মীয় উপায় অবলম্বন করেন। আবার কেউ ধর্মের তোয়াক্কা না করেই কিছু বাস্তবিক পন্থা অবলম্বন করে তা অর্জন করার চেষ্টা করেন। তবে কেবল মাত্র একজন মুমিন ব্যক্তি এ দুইয়ের সফল সমন্বয় ঘটাতে পারেন। যিনি নিজেকে তার স্রষ্টার কাছে সমর্পণ করে দিয়েছেন। অন্য কোন উপায়ে এসবের আংশিক অর্জন সম্ভব হলেও হতে পারে। তবে পরীপূর্ণ মানসিক প্রশান্তি, হৃদয়ের পরিতৃপ্তি অকৃত্রিম সুখ সবরকম দুশ্চিন্তা আর উৎকণ্ঠা থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব, কেবলমাত্র নিজেকে স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণ করার মাধ্যমেই।

 

এর ভিন্ন অন্য কোন পথ নেই। অনেকে আছেন যারা সেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেয়ে সুখে শান্তিতে বেঁচে আছেন। অনেকে আবার ব্যর্থ হয়ে দুঃখ কষ্টে দিন পার করছেন। অনেকে আছেন এ দু'দলের মাঝামাঝি পর্যায়ে এরা নিজ প্রচেষ্টা অনুযায়ী ফল পেয়েছেন প্রশ্ন হল কীভাবে সেই সাফল্য অর্জন সম্ভব।

 

চলুন দেখে নেই, আজকের পুরো ভিডিওতে একটা মানুষ প্রকৃত সুখ কিভাবে পেতে পারে আমরা আমাদের কাঙ্খিত সাফল্য কিভাবে অর্জন করতে পারে। তা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

 

ইমান এবং সৎকর্ম আলোচ্য সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে মৌলিক এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, মুমিন হয়ে পুরুষ ও নারী যে কেউ সৎ কর্ম করবে, তাকে আমি নিশ্চয়ই আনন্দময় জীবন দান করব, এবং তাদেরকে তাদের কর্মের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দান করব- সূরা নাহল আয়াত ৯৭।

 

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে জানিয়ে দিলেন যে, যদি কেউ হোক সে পুরুষ অথবা নারী ঈমান আনার সাথে সাথে সৎকর্ম করে, তাহলে তিনি তাকে ইহকাল এবং পরকাল উভয় জগতে আনন্দময় জীবন আর শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দান করবেন।

 

উভয় জগতে আনন্দময় জীবন আর শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দানের উদ্দেশ্যটি খুবই স্পষ্ট এখানে। আর তা হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এর প্রতি আন্তরিক অকোপট এবং অকৃত্রিম বিশ্বাস। এমন বিশ্বাস যা বিশ্বাস স্থাপনকারী সৎকর্মশীল হতে উদ্বুদ্ধ করে। তাকে ইহকালের সরল সঠিক পথ দেখায়, আর জান্নাতের পথে পরিচালিত করে। তিনি সকল কর্ম সম্পাদনের ক্ষেত্রে তার স্রষ্টা আর সেই ব্যক্তির সকল কর্ম সম্পাদনের ক্ষেত্রে তার স্রষ্টা প্রদত্ত বিধান ও দিক নির্দেশনা মেনে চলেন।

 

জীবনে বিপদ আপদ সুখ-দুঃখ যাই আসুক না কেন স্রষ্টা প্রদত্ত দিক নির্দেশনার অনুসরণ থেকে তিনি কখনোই বিরত হন না। জীবনে যাই ঘটুক সবকিছুকে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিয়ে আমাকে ধন্যবাদ দেন তিনি।

 

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কর্তৃক নির্ধারিত সিদ্ধান্তের প্রতি তার অকুণ্ঠ সমর্থন তার মধ্যে এমন এক চেতনার উন্মেষ ঘটায় যা তাকে আরও সৎকর্মশীল করে তোলে। তার কৃতজ্ঞতাবোধ প্রতিদান প্রাপ্তির সম্ভাবনা কে আরো বাড়িয়ে দেয়। তিনি যতদূর সম্ভব চেষ্টা করে বিপদ, আপদ, দুঃখ কষ্ট থেকে বেঁচে থাকার।

 

তবে বিপদ যদি চলেই আসে তিনি সহিষ্ণু হোন। বিপদে ধৈর্য ধারণ করে পরিস্থিতি সামাল দেন তিনি। বিপদ আসে তার কাছে আশীর্বাদ হয়ে। তাকে বিপদে ধৈর্যশীল হতে শেখায় এভাবেই ধৈর্যশীলতার ছোটখাটো বিপদ-আপদ, দুঃখ কষ্টোর আড়ালে একজন মুমিনের জীবনে কল্যাণ বয়ে আনে। ফলে আল্লাহর অনুগ্রহ আর তার পক্ষ থেকে প্রতিদান পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

 

সহিহ মুসলিম এ প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসে এমনটি বলা হয়েছে। মুমিনের অবস্থা কতই না চমৎকার। তার সব অবস্থাতে কল্যাণ থাকে। এটি শুধু মুমিনের বৈশিষ্ট্য যে যখন সে আনন্দ থাকে তখন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে এবং যখন সে কস্টে থাকে তখন সবর করে আর এ উভয় অবস্থায় তার জন্য কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসে সুবাহানাল্লাহ সহি মুসলিম হাদীস নং ২৯৯৯।

 

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন একজন মুমিনের জীবনে ভালো মন্দ যাই ঘটুক না কেন, সর্বাবস্থায় সে তার প্রতিটির জন্য প্রতিদান পেয়ে থাকে, যা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে।

 

দুশ্চিন্তা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ইত্যাদি থেকে মুক্তির আরেকটি উপায় হলো মানুষের প্রতি সদয় আচরণ করা। ব্যক্তি জীবনে অনৈতিক হয়েও কেউ মানুষের সাথে আচরণ করতে পারে।

 

একজন ধর্মহীন নাস্তিক হয়েও মানুষের সাথে কথা ও কর্মে সদয় এবং ন্যায় নিষ্ট হতে পারে। কিন্তু একজন ঈমানদার এর বিষয়টি একেবারেই ভিন্ন অন্যের প্রতি সদয় আচরণ করেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে প্রতিদান পাওয়ার আশায়। আল্লাহর প্রতি তার আন্তরিক বিশ্বাস থাকে মানুষের প্রতি সদয় হওয়ার শিক্ষা দেয়।

 

আল্লাহর প্রতি তার অগাধ বিশ্বাস আর প্রতিদান পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তাকে আরো বেশি সৎকর্মশীল করে তোলে। ফলে আল্লাহ তার চলার পথকে সহজ করে দেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, তাদের অধিকাংশ গুপ্ত পরামর্শে কোন মঙ্গল নিহিত থাকে না, হ্যা, তবে যে ব্যক্তি এরুপ যে দান অথবা কোন সৎকাজ কিংবা লোকের মধ্যে পরস্পর সন্ধি করে দেবার উৎসাহ প্রদান করে এবং যে আল্লাহর প্রসন্নতা সন্ধানের জন্য অনুরোধ করে আমি তাকে মহান বিনিময় প্রদান করব। সূরা আল নিসা আয়াত ১১৪

 

উক্ত আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যে মহান বিনিময়ের কথা বলেছেন তার একটা অংশ হলো দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ইত্যাদি থেকে মুক্তি। দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় আরেকটি কারণ হলো স্নায়ুবিক উত্তেজনা এবং বিভিন্ন বিশৃংখল ভাবনা যা সব সময় মনকে আচ্ছন্ন করে রাখে। এর থেকে মুক্তির উপায় হলো নিজেকে সবসময় ভাল কাজে ব্যস্ত রাখা বা কল্যাণকর জ্ঞান অর্জনে আত্মনিয়োগ করা। এতে করে মনের ভেতর কুচিন্তা আর ঠাই পাবে না।

ফলে ভাবনার জগতে পরিবর্তন আসবে। দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা সৃষ্টিকারী ভাবনাগুলো মন থেকে বিদায় নেবে। মনের সুখ ফিরে আসবে মনোবল দৃঢ় হবে।

 

নিজেকে এমন কাজে ব্যস্ত রাখা উচিত যে কাজ নিজের কাছে উপভোগ্য বলে মনে হয়। যে কাজ করে আনন্দ পাওয়া যায়। তাহলেই কাঙ্খিত ফলাফল আশা করা যায়। তবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সবচেয়ে ভালো জানেন।

 

উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি থেকে রেহাই পাওয়ার আরেকটি পথ আছে, আর তা হলো অতীতে কী হয়েছে বা কি হয়নি, ভবিষ্যতে কি হবে এসব নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে শুধু বর্তমান মুহূর্তগুলোকে কি করে অর্থপূর্ণ এবং সার্থক করা যায় তার প্রতি অধিক মনোযোগ দেওয়া।

 

আর একারণেই প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করতে যেন অতীতে কী হয়েছে বা ভবিষ্যতে কি হবে এ ধরনের ভাবনা দুশ্চিন্তা তার মধ্যে সৃষ্টি না হয়।

 

কারণ অতিত কিংবা ভবিষ্যত দুইয়ের মধ্যে কোনটিই মানুষের নিয়ন্ত্রণাধীন বিষয় নয়। তাই এই মুহূর্তে কি করছি, ঠিক করছি না ভুল করছি, এটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

 

আর এভাবে যদি বর্তমানকে নিয়ে ভাবা যায় তাহলে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সুন্দর হয়ে উঠবে। মনে দুশ্চিন্তাও আর ঠাই পাবে না। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই নিজে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে কোন বিষয়ে দোয়া করতেন। কিংবা তার সাহাবীদের কোন দোয়া শিক্ষা দিতেন তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অনুগ্রহ লাভের আশা করার পাশাপাশি তা অর্জনের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্য জোড় তাগিদ দিতেন।

 

দোয়া করার পাশাপাশি অবশ্যই সাফল্য অর্জনের জন্য প্রচেষ্টা চালাতে হবে। প্রত্যেকেরই উচিত এমন কিছু অর্জনের চেষ্টা করা যা ইহকাল এবং পরকাল উভয় জগতের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে আর এ জন্য চেষ্টা করার পাশাপাশি      আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীনের কাছে সাহায্য চেয়ে দোয়া করতে হবে।

 

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যা কল্যাণকর তাই অর্জনের চেষ্টা কর, এজন্য আল্লাহ্‌র কাছে সাহায্য চাও এবং নিরাশ হইয়োনা।

 

যদি খারাপ কিছু ঘটে তাহলে এমনটি বোলোনা যে, যদি এমন এমন করতাম তো এমন এমন হতো।

 

বরং তুমি বল যে, আল্লাহ্ যা নির্ধারণ করেছেন ও চেয়েছেন তাই করেছেন, কারণ যদি কথাটি শায়তানের কর্ম কে খুলে দেয়।” [সহীহ্‌ মুসলিম]

 

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখিয়েছেন যে ভাল কিছু অর্জন করতে হলে আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীনের সাহায্য এবং প্রচেষ্টা দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

 

তাঁর সাহায্য ছাড়া শুধু প্রচেষ্টা দিয়ে কোন কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়। আবার ব্যর্থতার ক্ষেত্রে নিরাশারও কোন অবকাশ নেই। অতীতে যা হওয়ার হয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে যা হবে তাও আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীনের অলঙ্ঘনীয় ইচ্ছা অনুযায়ী হবে।

 

প্রিয় নবী সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে কোন বিষয় সংঘটনের ক্ষেত্রে দুটি অবস্থার কথা তুলে ধরেছেন—

 

প্রথম অবস্থাটি এরকম যে, হয়ত কেউ একটা কিছু অর্জনের জন্য চেষ্টা করছে অথবা কোন কিছু থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে হয়ত সে সফলও হচ্ছে। এক্ষেত্রে বুঝতে হবে যে, প্রাপ্ত সাফল্য আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীনের সাহায্য ছাড়া সম্ভব হয়নি।

 

এই ধরনের সম্ভাব্য সাফল্যের জন্য আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীনের কাছে অবশ্যই সাহায্য চাইতে হবে। আবার কিছু বিষয় আছে যেগুলোর ক্ষেত্রে হাজার চেষ্টা চালিয়েও সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। সে সব ক্ষেত্রে মনের শান্তি বিনষ্ট না করে আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীনের ইচ্ছার কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে হবে।

 

উক্ত বিষয়টিকে মনে রেখে জীবন যাপন করলে জীবনে কখনও অতৃপ্তি বা অপ্রাপ্তিবোধ আর পীড়া দেবে না। দুশ্চিন্তা কিংবা মানসিক অতৃপ্তিও আর থাকবে না।

 

মানসিক পরিতৃপ্তি এবং হৃদয়ের প্রশান্তি লাভের অন্যতম উপায় হল আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীনকে স্মরণ করা। মহান প্রতিপালক আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীন কে স্মরণের মাধ্যমে মানসিক প্রশান্তি এবং আন্তরিক পরিতৃপ্তি অর্জিত হয়।

আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন: “নিশ্চয় আল্লাহ্‌র যিক্‌র-এ অন্তর প্রশান্ত হয়।” [সূরা আল রা’দ; আয়াত ২৮]

 

আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীন এর স্মরণ অর্থাৎ জিক্র আমদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলে। তাঁকে স্মরণ করার মাধ্যমেও আমরা প্রতিদানের আশা করি যা আমাদেরকে আরো বেশী প্রতিদান লাভের বাসনাকে বাড়িয়ে দেয়।

 

উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি থেকে রেহাই পাওয়া এবং সুখি হওয়ার আরেকটি উপায় হলো; দুশ্চিন্তার কারণগুলোকে দূর করার চেষ্টা করা এবং যা কিছু সুখ বয়ে আনে তা অর্জনের চেষ্টা করা। এক্ষেত্রে অতীতের পীড়াদায়ক ঘটনাগুলোকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, অতীতকে ভেবে দুঃখ পাওয়া সময়ের অপচয় ছাড়া কিছুই নয়।

 

তাই এসব বিষয়ে ভাবনা চিন্তা বাদ দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কি হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।

 

ভবিষ্যৎ ভেবে উদ্বিগ্ন হওয়া একেবারেই অমূলক। কারন ভবিষ্যৎ হল অজ্ঞাত একটি বিষয়। ভবিষ্যতে ভাল হবে, না মন্দ হবে তা কেউই আগাম বলতে পারেনা। বিষয়টি সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞানী আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীনের হাতেই ন্যাস্ত। আমরা তাঁর বান্দা হিসেবে যা করতে পারি তা হল; ভাল কিছুর জন্য চেষ্টা করা আর মন্দকে দূরে সরিয়ে রাখা।

 

অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে যে, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে, যদি নিজ প্রতিপালকের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস এবং আস্থা রেখে অবস্থার উন্নয়নের চেষ্টা করা হয়, তাহলে মনে প্রশান্তি বিরাজ করবে এবং উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি থেকে পরিত্রান পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা থেকে পরিত্রান পাওয়ার অন্যতম কার্যকর উপায় হলো, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিম্নোক্ত দোয়াটি পাঠ করা।

 

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা থেকে নিম্নোক্ত দোয়াটির  মাধ্যমে আল্লাহ তা’য়ালার কাছে সাহায্য চাইতেন।

 

স্ক্রীনে আপনারা আরবি উচ্চারণটি দেখতে পাচ্ছেন। আমি বাংলা অর্থটি বলছি; হে আল্লাহ! তুমি আমার দ্বীনকে সংশোধন করে দাও যা আমার জীবনের ভিত্তি এবং আমার পার্থিব ও কর্মকাজকেও সংশোধন করে দাও। যার মাধ্যমে রয়েছে আমার জীবিকা এবং আমাকে দাও সর্বোত্তম সমৃদ্ধি আখেরাতে, যেখানে আমার প্রত্যাবর্তন আমার জীবনকে পুণ্য অর্জনের মাধ্যম বানিয়ে দাও এবং মৃত্যুকে করো সমস্ত মন্দ থেকে বেঁচে যাওয়ার অবকাশ।

 

তিনি আরো বলতেন: “আল্লাহুম্মা রাহমাতাকা আরজু ফালা তাকিলনি ইলা নাফসি তারফাতা, আইনিন ওয়া আসলিহলি শা’নি কুল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আনতা”।

 

অর্থ হে আল্লাহ! আমি আমার করুণা কামনা করি, তাই এক মুহূর্তের জন্য তুমি আমাকে আমার নিজের উপর ছেড়ে দিও না এবং তুমি আমার সকল কাজকর্মকে সংশোধন করে দাও। তুমি ছাড়া সত্য এবং ইবাদতের যোগ্য কোন ইলাহ নেই।

 

ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ অর্জনের জন্য যদি কোন ব্যক্তি দোয়া গুলো খালেস নিয়তে ও আন্তরিকতার সাথে পাঠ করে এবং সাথে সাথে কল্যাণ অর্জনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে সফলতা দান করবেন। তার চাওয়া পাওয়া এবং আশা-আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করে দেবেনই তার দুশ্চিন্তাকে হৃদয়ের প্রশান্তি দিয়ে বদলে দেবেন।

 

Wednesday, October 19, 2022

দোয়া করলে তার উত্তর পেতে দেরি হয় কন?

কিছু লোক অনেক দোয়া করেন কিন্তু কোন সারা পাননা। তার দীর্ঘকাল ধরে চাইতেই থাকেন, কিন্তু কোন ফল পান না। এমন ক্ষেতগুলোতে আপনি দেখবেন শয়তান এমন লোকের কানে ফিসফিসানী শুরু করেছেন। এবং সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সম্পর্কে নীতিবাচক চিন্তা করার জন্য বিভিন্ন কুমন্ত্রণা এবং শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে



 আসুন এ বিষয়ে উত্তর আজ জেনে নিবো।

প্রশসংসা একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার জন্য।

প্রথমত যে ব্যক্তিরে ক্ষেত্রে এটার ঘটে তার বিশ্বাস করা উচিৎ যে. দোয়া করার পরও সারা না পাওয়ার মাঝে একটি কারণ  ও বিশাল এক প্রজ্ঞা লুকিয়ে আছে। আল্লাহু সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সার্বভৌমত মালিক এবং কেউ তার দয়াকে থামিয়ে দিতে বা ক্ষমতা কে নস্যাৎ করতে পারে না। তিনি দয়া করে কেউকে কিছু দিতে চাইলে বা ন্যায় বিচার করে কাউকে দিতে না চাইলে তার ইচ্ছাকে প্রভাবিত করে এমন কোন শক্তি বা সত্বা নেই। আমরা তার বান্দা আর আমাদের সাথে তাই করেন যা তিনি পছন্দ করেন। সুরা আল কাসাস এর ৬৮ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন আর তোমাদের প্রভু! যা ইচ্ছা ও পছন্দ তাই সৃষ্টি করেন। এতে তাদের কোন পছন্দের অবকাশ নেই। কোন যুক্তিতে একজন কর্মচারী মালিককে তার প্রাপ্য সম্মান না করেই নিজের পাওনা পুরোটাই দাবী করতে পারে। অবাধ্যতা নয় আনুগত্য। ভুলে যাওয়া নয়, স্মরণ। অকৃতজ্ঞতা নয় ধন্যবাদ পাওয়াটাই তার অধিকার। আপনি যদি নিজের দিকে আর দেখেন কিভাবে নিজ দায়িত্ব পালন করছেন, তবে নিজেকে খুবই নগন্ন মনে হবে। আপনি অপমানবোধ করবেন আর উপলব্ধি তার ক্ষমা ও দয়া ছাড়া কোন মুক্তিই নেই। তাই সৃষ্টিকর্তার ও বিধায়ক আল্লাহর দাস হিসেবে নিজেকে রাখুন।

এবার আসুন দিত্বীয় পয়েন্টে: আল্লাহ মহান জ্ঞানী তিনি কারণ ছাড়া কাউকে কিছু বা দেন বা দেওয়া থেকে ফেরান না। আপনি কোন কিছুর দিকে তাকিয়ে সেটাকে খুব ভালো ভাবতে পারেন যা আপনার কাছে যন্ত্রণাদায়ক মনে হবে। যদিও তা রোগীর সবোচ্চ স্বার্থেই করা হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে একটি কুরআন এর আয়াত বলতে চাই সুরা নাহলের ৬০ নং আয়াত “আর আল্লাহই সর্বোচ্চ জ্ঞানের অধিকারী” এ আয়াতের সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায়। আপাত দৃষ্টিতে দোয়াটি কবুল হয়নি ঠিক আছে কিন্তু এর ধারা আপনি অধিক কল্যাণ পেয়ে গেলেন। যা হয়তো আপনি আমি সাময়িক সময়ের জন্য বুঝতে পারবো না।

তৃতীয় পয়ন্টি হচ্ছে। ব্যক্তি যা চায় তার প্রত্যেকটি তাকে দেওয়া হলে তা তার জন্য অমঙ্গলজনক হতে পারে। একজন সালাফের বর্নণা অনুযায়ী তিনি কোন সামরিক অভিযানে যাওয়ার জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করতেন। কিন্তু কিনি একঠি কণ্ঠ শুনতে পান। তুমি সামরিক অভিযানে গেলে বন্দী হবে। আর বন্দি হয়ে গেলে খিষ্টান হয়ে যাবে। ইবনুল কায়্যিম বলেন: আল্লাহ তার বিশ্বাসী বান্দাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তা রহমত স্বরূপ। যদিও তা প্রদান বন্ধ করে হতে পারে। পরীক্ষা হলেও সেটি কল্যাণকর আর তার নির্ধারিত দূর্যোগ ও মঙ্গলজনক যদিও তা পীড়াদায়ক হয়। কেউ জানেনা তার বিষয়গুলো কিভাবে শেষ হবে। সে এমন কিছু চাইতে যা তাকে পরিচালিত করবে, কূফলের দিকে যাতে তার ক্ষতি হয়ে যায়। তার জন্য কোনটি সবচেয়ে ভালো তা অদৃশ্যের মালিক আল্লাহই ভালো জানেন।

আর এমন হতে পারে তুমি যা অপছন্ত করছো তা তোমার জন্যই মঙ্গলকর। সূরা বাক্বারা আয়াত নং ২১৬। এ আয়াতের একটি অর্থ হতে পারে, যে আমাদের এমনভাবা উচিৎ নয় যে, বিধাতার বিধান অন্যরূপ অথবা তার কাছে এমন কিছু চাওয়া উচিৎ নয় যে বিষয়ে আমাদের জ্ঞান নেই। এজন্য যে তা আমাদের অজান্তেই আমাদের ক্ষতি করবে। তাই আমাদের জন্য আমাদের প্রভু যা পছন্দ করেছেন তা ভিন্ন অন্ন কিছু আমাদের পছন্দ করা উচিৎ নয় বরং তার কাছে আমাদের কোন শুভ পরিনতী কামনা করা উচিৎ। আর এজন্য যে এছাড়া অধিকতর উপকারী আমাদের জন্য আর কিছুই নেই।

 

চতুর্থ পয়েন্ট হচ্ছে। বান্দা নিজের জন্য যা পছন্দ করেন তা হচ্ছে আল্লাহ তার জন্য যা পছন্দ করেন তাই শ্রেষ্ট। আল্লাহ তার বান্দাকে এতটাই ভালো বাসেন, যতটা বান্দা নেজেকেই ভালোবাসতে পারেনা। যদি তার এমন কিছু হয় যা সে অপছন্দ করে, তাহলে সেটা না ঘটার চেয়ে ঘটাইম উত্তম। তাই তার বিধান দয়া ও মমাতয় ভরপুর। বান্দা যদি আল্লাহর সিকট তা আত্মসমর্পণ করেন। আর বিশ্বাস করেন যে, সকল ক্ষমতার উৎস আল্লাহ এবং সবকিছুই তার নিয়ন্ত্রণাধীন। এবং তার প্রতি তিনি নিজ অপেক্ষা অধিক দয়াশীল, তবেই সে কাঙ্খিত বস্তুটি না পেলেও তার মানসিক প্রশান্তি নষ্ট হবে না।

পঞ্চম বিষয়টি হচ্ছে: এমন হতে পারে যে, ব্যক্তি এমন কিছু করছেন যার জন্য তার দোয়া কবুল হচ্ছে না বা বিলম্ব হচ্ছে। হতে পারে তার খাদ্য হারাম। হতে পারে তিনি যখন দোয়া করেছেন তার মনের ঐকান্তিকতার অভাব ছিল: হতে পারে তিনি কোন পাপে লিপ্ত থাকা অবস্থায় দোয়া করেছেন। তাই দোয়া আর সাড়া পেতে দেরি হওয়াটা ব্যক্তির নিজেকে সামলে নিতে। প্রভুর সম্মুখে কিভাবে দাড়াতে হবে তা শুধরে নিতে  তাগিদ দেয়। যাতে করে সে নিজে সংশোধিত ও অনুতপ্ত হয়।

যদি সে দোয়ার সাড়া দ্রুত পেতো হয়তো সে বেখেয়াল হয়ে যেত। যা কিছু করছে তা ঠিক বলে মনে কের তা করেই ফেলতো। তারপর তার ভেতর আত্ম-তুষ্টির মনোভাব তৈরি হতো যা তাকে সর্বনাশের দিকে নিয়ে যেতো।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এমন কোন মুসলিম নেই যে আল্লাহর কাছে দোয়া করে, আর তার কোন পাপ নেই বা পরিবারের বন্ধন ছিন্ন করেনি। অথচ আল্লাহ তাকে তিন পদ্ধতীর যে কোনভাবে পুরস্কার দেবেন। হয়তো আল্লাহ তার দোয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেবেন, বা তিনি পরকালে প্রতিদান দেয়ার জন্য জমা রাখবেন। অথবা এই কারণে তার সমপরিমান পাপ মোচন করে দিবেন।

সাহাবা (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু গনকে জানতে চাইলেন আমরা যদি অনেক বেশি দোয়া করি?

তিনি বললেন আল্লাহ ততোধীক মহান।

পরিশেষে বলতে চাই দোয়া করে ফল লাভ না করার বা দেরিতে করার অনেক কারণ রয়েছে। এটা আমাদের অবশ্যই মানতে হবে এবং দোয়া করা থামিয়ে দিলে চলবে না। কেননা দোয়া সবসমই আমাদের জন্য কল্যাণ এবং মঙ্গল বয়ে নিয়ে আসে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সমস্ত বিষয়ে সর্বোজ্ঞ।

 

………………………………………………………………………………………………………………………………….

আজান চলাকলীন যে কাজগুলো অবশ্যই করবেন, আর যে কাজগুলো একেবারেই করবেন না।

আসুন যেনে নেওয়া যাক। পৃথিবীর সবচেয়ে সমুধুর ধ্বনীর নাম আজান এটি মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে কোটি মানুষের উপলব্দি। ইন্টারনেটে অঝস্র ভিডিওস রয়েছে যেখানে দেখা যায়। একজন অমুসলিমও আজানের বানী শুনে তিনি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যায়। তা হবেনা কেনো ?

এ আজান তো সৃষ্ঠির প্রতি মহান সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তার আহ্বান। একজন মানুষকে যখন তার মহান মালিকের প্রতি আহব্বান করা হয়, তার উপলব্ধি তখন কেমন হতে পারে। তাই আজানের আওয়াজ শুধ মুসলমানের অন্তরেই নারা দেওয়না বরং তা অমুসলিমের অন্তরকেও আকর্ষণ করে। যুগ যুগে যার অজস্য উদাহারণ রয়েছে। হ্যা হিংসুক ও নিন্দুকের কথা ভিন্ন। আল্লাহর ভাষায় যার অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দেন সেতো হেদায়েতের আলো থেকে বঞ্নিত হবে। তাই ইসলামে আজানের একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আজান শুনে আজানের জওয়াব দেওয়ায় রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। আজান শ্রবণকারীরও মৌখিকভাবে আজানের উত্তর দেওয়া সুন্নত।

রাসুলুল্লাল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন তোমরা আজান শুনবে এর জবাব মুয়াজ্জিনের অনুরুপ তোমরাও বলবে। আজানের জবাব দেওয়ার পদ্ধতীতি গুলো আমাদের প্রত্যেকেরই জানা রয়েছে। মুয়াজ্জিন প্রত্যেকটি বাক্য বলে থামার পর, শ্রোতা ঐ বাক্যটি নিজেও অনুরুপভাবে বলবে। কিন্তু মুয়াজ্জিন “হাইয়া আলাস সালাহ ও হাইয়া আলাল ফালাহ” বলার সময় শ্রোতা “লা হাওলা ওয়া কুয়াতা ইল্লাবিল্লাহ” বলবে। এটাই বিশুদ্ধ অভিমত। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩৮৫)।

তবে কোন কোন বর্ণনায় “হাইয়া আলাস সালাহ ও হাইয়া আলাল ফালাহ” বলার সময় মুয়াজ্জিনের অনুরুপ বলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। (কিতাবুত দাওয়া, তাবারানী হাদসি নং ৭৫৮)।

“আস্সালাতু খাইরুম মিনাল নাউম” এর জবাব, ইসলামী ফিকাহের বিভিন্ন কিতাবের বর্ণনামতে ফজরের আজানে “আস্সালাতু খইরুম মিনাল নাউম” এর জবাবে, সাদাকতা ও বারাকতা বলতে হবে। “আস্সালাতু খইরুম মিনাল নাউম” শব্দের অর্থ হলো, ঘুম থেকে নামাজ উত্তম” কিন্তু হাদিস ও সুন্নাহে এর কোন প্রমান না পাওয়া যাওয়ায় বিশুদ্ধতম মতানুশারে “আস্সালাতু খইরুম মিনাল নাউম” এর জবাবে মুয়াজ্জিনের মত অনুরুপ “আস্সালাতু খইরুম মিনাল নাউম” বলাই উত্তম।]

কেননা হাদিস শরীফে এসেছে, আজানের জবাবে তোমরা মুয়াজ্জিনের অনুরুপ বলবে।

প্রচলিত কিছু ভুল আছে সেরকম দুটি ভুলও আলোচনা করছি। কেউ কেউ আজানে আল্লাহু আকবার এর জবাবে জাল্লা জালালুহু পরে থাকেন, এটি সুন্নাহ পরিপন্থী

 অনেকেই আজানের সময় জবাব দিতে গিয়ে “আশহাদু আননা মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাল্লাহ এর জবাবে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” বলে থাকেন। এটিও ঠিক নয় কেননা এসময় দরুদ পড়ার নির্দেশ নেই বরং তখনও মুয়াজ্জিনের অনুরুপ আশহাদু আননা মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ বলাই সুন্নাত। আল বাহরুহু রায়েক প্রথম খন্ডের ২৭৩ পৃষ্ঠা আহসানুল ফতওয়া দ্বিতীয় খন্ডের ২৭৮ পৃষ্ঠা। আর এই দরুদ পাঠ করা উচিত আজান শেষ হওয়ার পর। আমাদের দেশে আজানে “আশহাদু আননা মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” বলার সময় অনেকে বৃদ্ধা আঙ্গুলে চুমু খেয়ে চোখে মুছে থাকেন। কেউ কেউ আবার সংগে “কুররাত আইনি ” এই দুয়াও পরে থাকে। অথচ ইসলামের শরিয়তে এর কোন প্রশান নেই। শুতরাং এটি বর্জণীয়। প্রসিদ্ধ আছে আজানের জওয়াব না দিলে বা আজানের সময় কলা বললে, বেইমান হয়ে যাই কিংবা বেইমান অবস্থায় মারা যাওয়ার ভয় আছে। এরুপ কোন বর্ণনাও হাদিসের কিতাবে নেই।

সুতরাং এটিও ভ্রান্ত বিশ্বাস। তবে আজানে চুপ থাকতে হবে। যারা আজানের জওয়ার দিবে না। নামাজ আদায়কারী, অনাহার অবস্থায়, ইস্তেন্জাকারী ইত্যাদি সময় জওয়াব দেওয়া যাবে না। তবে অনেক আলেমদের মতে আজানের পরক্ষনে যদি উল্লেখিত কাজ থেকে অবসর হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আজানের জওয়াব দিয়ে দেওয়া উত্তম। কুরআন তিলাওয়াতকারী তিলাওয়াত সাময়িক বন্ধ রেখে আজানের জওয়ার দেওয়াই উত্তম।

জুমআর দ্বিতীয় আজানের জওয়াব জুমআর দ্বিতীয় আজানের সময় যখন খতিব সাহেব মিম্বরে উপবিষ্ট থাকেন, তখন ফিকাহ বিদদের নির্ভযোগ্য মতানুযায়ী, জুমআর দ্বিতীয় আজানের জাওয়াব মৌখিক না দেওয়াটাই উত্তম। তা সত্বেও কেউ দিতে চাইলে মনে মনে জবাব দিতে পারেন।

আজানের সময় দুনিয়াবী কথা ও কাজে লিপ্ত থাকা, আজানের সময় চুপ থাকা সুন্নত। একান্ত প্রয়োজন না হলে সাধারন দ্বিনী ও দুনিয়াবী কথা বা কাজে লিপ্ত থাকা অনুচিৎ। বক্তিৃতা বা সেমিনার চলাকালে আজান হয়ে সাময়িক তা স্থগিত রাখবে। ওয়াজ বা কোন দ্বিনী মাহফিল চলাকালেও তা সাময়িক বন্ধ রেখে সবাইকে আজানের জওয়াব দেওয়া উত্তম।

মনে রাখতে হবে। একজন আজানের জওয়ার দিলে সবার পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায়। কেনন আজানের জওয়াব দেওয়া শ্রবণকারী সব মুসলমানের জন্য সুন্নত। আর আজানের জবাব দেওয়া সুন্নতে কেফায়া। রেডিও টেলিভিশনের আজানের সরাসরি সপ্রচার করা হলে জবাব দেওয়া সুন্নত। রেকর্ড করা হলে তার জবাব দেওয়া সুন্নত নয়। আজানের পর দরুদ শরীফ ও দোয়া পাঠ করা সুন্নত। হাদিস শরীফে এর ফিজলত বর্ণিত হয়েছে। রসুলুল্লাল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আজানের পর আল্লাহুম্মা রব্বাহাজিহিদ্দা ওয়াতিতাম্মা। এই দোয়াটি শেষ পর্যন্ত পাঠ করবে তার জন্য আখিরাতে আমার সুপারিশ অবধারিত বুখারী- হাদিস নং ৬১৪।

অন্য বরর্ণনায় রয়েছে। তোমরা মুয়াজ্জিনের অনুরুপ শব্দের আজানের জবাব দাও অতপর দরুদ পাঠ কর। এরপর আমার জন্য বেহেস্তের সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থানের জন্য দোয়া করো। আশা করি আল্লাহ তায়ালা আমাকেই সেই স্থান দান করবেন। যে ব্যক্তি এ দোয়া করবে, তার জন্য আখিরাতে আমার সুপারিশ অবধারিত হয়ে যায়। মুসলিম হাদিস নং ৩৮৪।

আজানের পর হাত তোলে মুনাজাত,

আজানের পর দরুদ শরীফ পরে একটি বিশেষ দোয়া পরার কথা হাদিস শরীফে রয়েছে। তবে আজানের পর হাত তুলে দোয়া পরা ও মুনাজাত করার কথা উল্লেখ নেই। আল্লাহুম্মা রব্বাহাজিহিদ্দা ওয়াতিতাম্মা এ দোয়াটি শেষ পর্যন্ত পরার জন্য হাত তোলার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা নেই।

আজানের মতো মুসল্লিদেরে একামতের জবাব দেওয়া মুস্তাহাব। একামতের জবাবও আজানের অনুরুপ। শুধু একামতের মধ্যে, “কাদকা মাতিস সালাহ”, এর জবাবে, ‘আকাহমাল্লাহু ওয়া আদামাহা বলবে। হযরত আবু উমামা রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত একবার হযরত বেলাল রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু একামত দিচ্ছিলেন তখন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সঙ্গে আজানের অনুরুপ উত্তর দিয়েছেন, তবে কাদকা মাতি সালাহ বলার সময় বলেন, আহকামাল্লাহু ওয়া আদামাহা।

 

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সুদৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সকালে সায়্যিদুল ইস্তিগফার পাঠ করবে, সে যদি সন্ধ্যা হওয়ার আগেই মারা যায়, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে সুবহান আল্লাহ।

আর যে ব্যক্তি সুদৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সন্ধ্যায় “সায়্যিদুল ইস্তিগফার” পড়ে, সে যদি সকাল হওয়ার আগেই মারা যায়, তবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। -সহিহ বোখারি: ৬৩০৬

আসুন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ট আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শেখানো ইস্তেগফারের দোয়াটি আমরা সবাই শিখে নেই।

আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি। লা ইলাহা ইল্লা আনতা। খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা। ওয়া আনা আলা আহদিকা। ওয়া ওয়া’দিকা মাসতাতা’তু। আউজু বিকা মিন শাররি মা-সানা’তু। আবুয়ু লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়্যা। ওয়া আবুয়ু লাকা বি জাম্বি। ফাগফিরলী। ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনবা ইল্লা আনতা। অর্থাৎ হে আল্লাহ! একমাত্র আপনিই আমাদের প্রতিপালক। আপনি ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই। আপনিই আমার স্রষ্টা এবং আমি আপনার দাস। আমি আপনার সঙ্গে কৃত ওয়াদা ও অঙ্গীকারের উপর সাধ্যানুযায়ী অটল ও অবিচল আছি। আমি আমার কৃতকর্মের সব অনিষ্ট হতে আপানার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমার উওর আপনার দানকৃত সব নেয়ামত স্বীকার করছি। আমি আমার সব গুনাহ স্বীকার করছি। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। কেননা, আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না সুবহান আল্লাহ।

এছাড়াও সূরা আন-নূর এ বলা হয়েছে।- মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।

আর সূরা আশ-শুরা- তিনি তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন পাপসমূহ মার্জনা করেন এবং তোমাদের কৃত বিষয় সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।

আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেন: হে আদম সন্তান! যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি আমাকে ডাকবে এবং আমার কাছে (ক্ষমা) প্রত্যাশা করবে, তুমি যা-ই প্রকাশ হোক না কেন আমি তা ক্ষমা করে দেব- আর আমি কোন কিছুর পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তোমার গোনাহ্ যদি আকাশ সমান হয়ে যায় আর তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাও, তাহলে আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব। হে আদম সন্তান! যদি তুমি পৃথিবী পরিমাণ গোনাহ্ নিয়ে আমার কাছে আস এবং আমার সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক না করে আখেরাতে সাক্ষাত কর, তাহলে আমি সমপরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার সঙ্গে সাক্ষাত করবো। [তিরমিযী তে হাদিস খানা বর্ণনা হয়েছে হাদিস নং-৩৫৪০)

আবু সাইদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন বনী ইসরাইলের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল নিরানব্বই জন মানুষকে হত্যা করেছিলো। অতপর সে ফতওয়া জিজ্ঞেস করার জন্য বের হলো এবং একজন দরবেশের নিকট গিয়ে জিজ্ঞেস করলো তার ভিতরে অনেক অপরাধবোধ কাজ করছিলো, সে হতাস হচ্ছিল সে ভাবছিলো যে, তার হয়তো কোনদিন ক্ষমা হবে না। এরুপ ব্যক্তি জন্য কোন তওয়া আছে কি, সে জিজ্ঞেস করলো তিনি বললেন নেই। যেই লোকটি তাকে নেই বললেন, সে আলে নয় একজন জুলুমকারী ছিল এবং সে তাকেও হত্যা করলো এবং বারবার লোকদের জিজ্ঞেস করতে থাকলো অমু গ্রামে যাও অমুককে জিজ্ঞেস করো সময় তার মউত এসে গেলো এবং মৃত্যুকালে সে স্বীয় বক্ষককে ঐ গ্রামের দিকে কিছু বাড়িয়ে দিলো। অতপর রহমতের ফেরেস্তা ও আজাবের ফেরেস্তার দল পরস্পর ঝোগড়া করতে লাগলো। তারা তার রুহ নিয়ে যাবে। এ সময় আল্লাহ তা’য়ালা ঐ গ্রামকে বললেন তুমি মৃত্যের নিকট আসো। আর তার নিজ গ্রামকে বললো তুমি দুরে সরে যাও। অতপর ফেরেস্তাদের বললেন। তোমরা উভয় দিকের দুরত্ব মেপে দেখ মেপে তাকে এই গ্রামের দিকে বিঘত নিকটে পাওয়া গেলো। অর্থাৎ যেদিকে তওবার জন্য দৌড়াচ্ছিল, আল্লাহু আকবার, সুতরাং তাকে মাফ করে দেওয়া হলো। বুখারী , মুসলিম, মেসকাত শরীফেও হাদিসখানা বর্ণনা হয়েছে ২২১৯ নং হাদিস।

আল্লাহ তায়ালা তাওবাকারীদে অত্যান্ত ভালোবাসেন। বান্দা যখন তার অপরাধের জন্য অনুশুচনায় দগ্ধ হয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থণা করেন, তিনি তখন আনন্দিত হন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বান্দার তওবাতে কি পরিমাণ আনন্দিত হন তা নিম্নোক্ত হাদিসটি দেখুন।

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খাদেম আবু হামজা আনাস বিন মালিক, রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোন লোক বিজন মরুপ্রান্তরে উট হাড়িয়ে যাবার পর, পূণরায় তা ফিরে পেলে যে পরিমান আনন্দে উদ্বেলিত হয়, মহান আল্লাহ বান্দার তওবাতে তার চেয়ে বেশি আনন্দিত হন- সহিহ বুখারী।

আনাস ইবনুল মালিক, রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আমি বলতে শুনেছি বারাকাতময় আল্লাহ তায়ালা বলেন হে আদম সন্তান যতক্ষন আমাকে তুমি ডাকতে থাকবে এবং আমার থেকে ক্ষমা পাওয়ার আসায় থাকবে, তোমার গুনাহ যত অধিক হোক, তোমাকে আমি ক্ষমা করবই। এতে কোন পরোয়া করবো না। হে আদম সন্তান তোমার গুনাহর পরিমাণ যদি আসামানের কিনারা বা মেঘমালা পর্যন্ত পৌছে যায়, তার পরও তুমি আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো। আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেবো। এতেও আমি পরওয়া করবো না।

সর্বশেষ বুখারী শরীফের ৫৯৯৯ এর হাদিসের উর্দ্ধিতি দিয়ে শেষ করছি উমর ইবনুল খাত্তাব হতে বর্ণিত তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট কতগুলো যুদ্ধ বন্দিকে হাজির করা হলো। বন্দিদের মধ্যে একজন স্ত্রীলোক ছিল, যার স্তন ছিলো দুধে পূর্ণ, সে বন্দিদের মাধ্যে কোন শিশু পেলে তাকে কোলে নিত, এবং আদর করে নিজের বুকের দুধ পান করাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বললেন, তোমরা কি মনে করঃ এই স্ত্রী লোকটি তার সন্তানকে আগুনে ফেলে দিতে পারে? আমরা বললাম ফেলার ক্ষমতা রাখলেও সে কখনও ফেলবেনা। তারপর তিনি বললেন, এই স্ত্রীলোকটি তার সন্তানের প্রতি যতটা দয়ালু, আল্লাহ তার বান্দার উপর তার চেয়েওে বেশি দয়ালু, সুবহান আল্লাহ।

 

হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাল্লাহু থেকে বর্ণিত নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ব্যভিচারী যখন ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তখন সে মুমিন থাকেনা। চোর যখন চুরির কাজে লিপ্ত হয় তখন সে, মুমিন থাকে না। মদ্যপ ব্যক্তি যখন মদ পানে লিপ্ত হয়, তখন সে মুমিন থাকেনা। কিন্তু তার পরও তার জন্য তওবার দরজা খোলা থাকে- সুবহান আল্লাহ।

আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন আমাদের প্রত্যেকটি ভাইকে তওবাতুন নসুয়া করার তৌফিক দান করুক। এবং আমরা যেন অবশ্যই মৃত্যুর আগে একবার হলেও সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার বা তওবার শ্রেষ্ঠ দোয়াটি পড়ে যেতে পারি আমিন।