Wednesday, October 19, 2022

দোয়া করলে তার উত্তর পেতে দেরি হয় কন?

কিছু লোক অনেক দোয়া করেন কিন্তু কোন সারা পাননা। তার দীর্ঘকাল ধরে চাইতেই থাকেন, কিন্তু কোন ফল পান না। এমন ক্ষেতগুলোতে আপনি দেখবেন শয়তান এমন লোকের কানে ফিসফিসানী শুরু করেছেন। এবং সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সম্পর্কে নীতিবাচক চিন্তা করার জন্য বিভিন্ন কুমন্ত্রণা এবং শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে



 আসুন এ বিষয়ে উত্তর আজ জেনে নিবো।

প্রশসংসা একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার জন্য।

প্রথমত যে ব্যক্তিরে ক্ষেত্রে এটার ঘটে তার বিশ্বাস করা উচিৎ যে. দোয়া করার পরও সারা না পাওয়ার মাঝে একটি কারণ  ও বিশাল এক প্রজ্ঞা লুকিয়ে আছে। আল্লাহু সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সার্বভৌমত মালিক এবং কেউ তার দয়াকে থামিয়ে দিতে বা ক্ষমতা কে নস্যাৎ করতে পারে না। তিনি দয়া করে কেউকে কিছু দিতে চাইলে বা ন্যায় বিচার করে কাউকে দিতে না চাইলে তার ইচ্ছাকে প্রভাবিত করে এমন কোন শক্তি বা সত্বা নেই। আমরা তার বান্দা আর আমাদের সাথে তাই করেন যা তিনি পছন্দ করেন। সুরা আল কাসাস এর ৬৮ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন আর তোমাদের প্রভু! যা ইচ্ছা ও পছন্দ তাই সৃষ্টি করেন। এতে তাদের কোন পছন্দের অবকাশ নেই। কোন যুক্তিতে একজন কর্মচারী মালিককে তার প্রাপ্য সম্মান না করেই নিজের পাওনা পুরোটাই দাবী করতে পারে। অবাধ্যতা নয় আনুগত্য। ভুলে যাওয়া নয়, স্মরণ। অকৃতজ্ঞতা নয় ধন্যবাদ পাওয়াটাই তার অধিকার। আপনি যদি নিজের দিকে আর দেখেন কিভাবে নিজ দায়িত্ব পালন করছেন, তবে নিজেকে খুবই নগন্ন মনে হবে। আপনি অপমানবোধ করবেন আর উপলব্ধি তার ক্ষমা ও দয়া ছাড়া কোন মুক্তিই নেই। তাই সৃষ্টিকর্তার ও বিধায়ক আল্লাহর দাস হিসেবে নিজেকে রাখুন।

এবার আসুন দিত্বীয় পয়েন্টে: আল্লাহ মহান জ্ঞানী তিনি কারণ ছাড়া কাউকে কিছু বা দেন বা দেওয়া থেকে ফেরান না। আপনি কোন কিছুর দিকে তাকিয়ে সেটাকে খুব ভালো ভাবতে পারেন যা আপনার কাছে যন্ত্রণাদায়ক মনে হবে। যদিও তা রোগীর সবোচ্চ স্বার্থেই করা হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে একটি কুরআন এর আয়াত বলতে চাই সুরা নাহলের ৬০ নং আয়াত “আর আল্লাহই সর্বোচ্চ জ্ঞানের অধিকারী” এ আয়াতের সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায়। আপাত দৃষ্টিতে দোয়াটি কবুল হয়নি ঠিক আছে কিন্তু এর ধারা আপনি অধিক কল্যাণ পেয়ে গেলেন। যা হয়তো আপনি আমি সাময়িক সময়ের জন্য বুঝতে পারবো না।

তৃতীয় পয়ন্টি হচ্ছে। ব্যক্তি যা চায় তার প্রত্যেকটি তাকে দেওয়া হলে তা তার জন্য অমঙ্গলজনক হতে পারে। একজন সালাফের বর্নণা অনুযায়ী তিনি কোন সামরিক অভিযানে যাওয়ার জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করতেন। কিন্তু কিনি একঠি কণ্ঠ শুনতে পান। তুমি সামরিক অভিযানে গেলে বন্দী হবে। আর বন্দি হয়ে গেলে খিষ্টান হয়ে যাবে। ইবনুল কায়্যিম বলেন: আল্লাহ তার বিশ্বাসী বান্দাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তা রহমত স্বরূপ। যদিও তা প্রদান বন্ধ করে হতে পারে। পরীক্ষা হলেও সেটি কল্যাণকর আর তার নির্ধারিত দূর্যোগ ও মঙ্গলজনক যদিও তা পীড়াদায়ক হয়। কেউ জানেনা তার বিষয়গুলো কিভাবে শেষ হবে। সে এমন কিছু চাইতে যা তাকে পরিচালিত করবে, কূফলের দিকে যাতে তার ক্ষতি হয়ে যায়। তার জন্য কোনটি সবচেয়ে ভালো তা অদৃশ্যের মালিক আল্লাহই ভালো জানেন।

আর এমন হতে পারে তুমি যা অপছন্ত করছো তা তোমার জন্যই মঙ্গলকর। সূরা বাক্বারা আয়াত নং ২১৬। এ আয়াতের একটি অর্থ হতে পারে, যে আমাদের এমনভাবা উচিৎ নয় যে, বিধাতার বিধান অন্যরূপ অথবা তার কাছে এমন কিছু চাওয়া উচিৎ নয় যে বিষয়ে আমাদের জ্ঞান নেই। এজন্য যে তা আমাদের অজান্তেই আমাদের ক্ষতি করবে। তাই আমাদের জন্য আমাদের প্রভু যা পছন্দ করেছেন তা ভিন্ন অন্ন কিছু আমাদের পছন্দ করা উচিৎ নয় বরং তার কাছে আমাদের কোন শুভ পরিনতী কামনা করা উচিৎ। আর এজন্য যে এছাড়া অধিকতর উপকারী আমাদের জন্য আর কিছুই নেই।

 

চতুর্থ পয়েন্ট হচ্ছে। বান্দা নিজের জন্য যা পছন্দ করেন তা হচ্ছে আল্লাহ তার জন্য যা পছন্দ করেন তাই শ্রেষ্ট। আল্লাহ তার বান্দাকে এতটাই ভালো বাসেন, যতটা বান্দা নেজেকেই ভালোবাসতে পারেনা। যদি তার এমন কিছু হয় যা সে অপছন্দ করে, তাহলে সেটা না ঘটার চেয়ে ঘটাইম উত্তম। তাই তার বিধান দয়া ও মমাতয় ভরপুর। বান্দা যদি আল্লাহর সিকট তা আত্মসমর্পণ করেন। আর বিশ্বাস করেন যে, সকল ক্ষমতার উৎস আল্লাহ এবং সবকিছুই তার নিয়ন্ত্রণাধীন। এবং তার প্রতি তিনি নিজ অপেক্ষা অধিক দয়াশীল, তবেই সে কাঙ্খিত বস্তুটি না পেলেও তার মানসিক প্রশান্তি নষ্ট হবে না।

পঞ্চম বিষয়টি হচ্ছে: এমন হতে পারে যে, ব্যক্তি এমন কিছু করছেন যার জন্য তার দোয়া কবুল হচ্ছে না বা বিলম্ব হচ্ছে। হতে পারে তার খাদ্য হারাম। হতে পারে তিনি যখন দোয়া করেছেন তার মনের ঐকান্তিকতার অভাব ছিল: হতে পারে তিনি কোন পাপে লিপ্ত থাকা অবস্থায় দোয়া করেছেন। তাই দোয়া আর সাড়া পেতে দেরি হওয়াটা ব্যক্তির নিজেকে সামলে নিতে। প্রভুর সম্মুখে কিভাবে দাড়াতে হবে তা শুধরে নিতে  তাগিদ দেয়। যাতে করে সে নিজে সংশোধিত ও অনুতপ্ত হয়।

যদি সে দোয়ার সাড়া দ্রুত পেতো হয়তো সে বেখেয়াল হয়ে যেত। যা কিছু করছে তা ঠিক বলে মনে কের তা করেই ফেলতো। তারপর তার ভেতর আত্ম-তুষ্টির মনোভাব তৈরি হতো যা তাকে সর্বনাশের দিকে নিয়ে যেতো।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এমন কোন মুসলিম নেই যে আল্লাহর কাছে দোয়া করে, আর তার কোন পাপ নেই বা পরিবারের বন্ধন ছিন্ন করেনি। অথচ আল্লাহ তাকে তিন পদ্ধতীর যে কোনভাবে পুরস্কার দেবেন। হয়তো আল্লাহ তার দোয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেবেন, বা তিনি পরকালে প্রতিদান দেয়ার জন্য জমা রাখবেন। অথবা এই কারণে তার সমপরিমান পাপ মোচন করে দিবেন।

সাহাবা (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু গনকে জানতে চাইলেন আমরা যদি অনেক বেশি দোয়া করি?

তিনি বললেন আল্লাহ ততোধীক মহান।

পরিশেষে বলতে চাই দোয়া করে ফল লাভ না করার বা দেরিতে করার অনেক কারণ রয়েছে। এটা আমাদের অবশ্যই মানতে হবে এবং দোয়া করা থামিয়ে দিলে চলবে না। কেননা দোয়া সবসমই আমাদের জন্য কল্যাণ এবং মঙ্গল বয়ে নিয়ে আসে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সমস্ত বিষয়ে সর্বোজ্ঞ।

 

………………………………………………………………………………………………………………………………….

আজান চলাকলীন যে কাজগুলো অবশ্যই করবেন, আর যে কাজগুলো একেবারেই করবেন না।

আসুন যেনে নেওয়া যাক। পৃথিবীর সবচেয়ে সমুধুর ধ্বনীর নাম আজান এটি মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে কোটি মানুষের উপলব্দি। ইন্টারনেটে অঝস্র ভিডিওস রয়েছে যেখানে দেখা যায়। একজন অমুসলিমও আজানের বানী শুনে তিনি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যায়। তা হবেনা কেনো ?

এ আজান তো সৃষ্ঠির প্রতি মহান সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তার আহ্বান। একজন মানুষকে যখন তার মহান মালিকের প্রতি আহব্বান করা হয়, তার উপলব্ধি তখন কেমন হতে পারে। তাই আজানের আওয়াজ শুধ মুসলমানের অন্তরেই নারা দেওয়না বরং তা অমুসলিমের অন্তরকেও আকর্ষণ করে। যুগ যুগে যার অজস্য উদাহারণ রয়েছে। হ্যা হিংসুক ও নিন্দুকের কথা ভিন্ন। আল্লাহর ভাষায় যার অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দেন সেতো হেদায়েতের আলো থেকে বঞ্নিত হবে। তাই ইসলামে আজানের একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আজান শুনে আজানের জওয়াব দেওয়ায় রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। আজান শ্রবণকারীরও মৌখিকভাবে আজানের উত্তর দেওয়া সুন্নত।

রাসুলুল্লাল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন তোমরা আজান শুনবে এর জবাব মুয়াজ্জিনের অনুরুপ তোমরাও বলবে। আজানের জবাব দেওয়ার পদ্ধতীতি গুলো আমাদের প্রত্যেকেরই জানা রয়েছে। মুয়াজ্জিন প্রত্যেকটি বাক্য বলে থামার পর, শ্রোতা ঐ বাক্যটি নিজেও অনুরুপভাবে বলবে। কিন্তু মুয়াজ্জিন “হাইয়া আলাস সালাহ ও হাইয়া আলাল ফালাহ” বলার সময় শ্রোতা “লা হাওলা ওয়া কুয়াতা ইল্লাবিল্লাহ” বলবে। এটাই বিশুদ্ধ অভিমত। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩৮৫)।

তবে কোন কোন বর্ণনায় “হাইয়া আলাস সালাহ ও হাইয়া আলাল ফালাহ” বলার সময় মুয়াজ্জিনের অনুরুপ বলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। (কিতাবুত দাওয়া, তাবারানী হাদসি নং ৭৫৮)।

“আস্সালাতু খাইরুম মিনাল নাউম” এর জবাব, ইসলামী ফিকাহের বিভিন্ন কিতাবের বর্ণনামতে ফজরের আজানে “আস্সালাতু খইরুম মিনাল নাউম” এর জবাবে, সাদাকতা ও বারাকতা বলতে হবে। “আস্সালাতু খইরুম মিনাল নাউম” শব্দের অর্থ হলো, ঘুম থেকে নামাজ উত্তম” কিন্তু হাদিস ও সুন্নাহে এর কোন প্রমান না পাওয়া যাওয়ায় বিশুদ্ধতম মতানুশারে “আস্সালাতু খইরুম মিনাল নাউম” এর জবাবে মুয়াজ্জিনের মত অনুরুপ “আস্সালাতু খইরুম মিনাল নাউম” বলাই উত্তম।]

কেননা হাদিস শরীফে এসেছে, আজানের জবাবে তোমরা মুয়াজ্জিনের অনুরুপ বলবে।

প্রচলিত কিছু ভুল আছে সেরকম দুটি ভুলও আলোচনা করছি। কেউ কেউ আজানে আল্লাহু আকবার এর জবাবে জাল্লা জালালুহু পরে থাকেন, এটি সুন্নাহ পরিপন্থী

 অনেকেই আজানের সময় জবাব দিতে গিয়ে “আশহাদু আননা মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাল্লাহ এর জবাবে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” বলে থাকেন। এটিও ঠিক নয় কেননা এসময় দরুদ পড়ার নির্দেশ নেই বরং তখনও মুয়াজ্জিনের অনুরুপ আশহাদু আননা মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ বলাই সুন্নাত। আল বাহরুহু রায়েক প্রথম খন্ডের ২৭৩ পৃষ্ঠা আহসানুল ফতওয়া দ্বিতীয় খন্ডের ২৭৮ পৃষ্ঠা। আর এই দরুদ পাঠ করা উচিত আজান শেষ হওয়ার পর। আমাদের দেশে আজানে “আশহাদু আননা মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” বলার সময় অনেকে বৃদ্ধা আঙ্গুলে চুমু খেয়ে চোখে মুছে থাকেন। কেউ কেউ আবার সংগে “কুররাত আইনি ” এই দুয়াও পরে থাকে। অথচ ইসলামের শরিয়তে এর কোন প্রশান নেই। শুতরাং এটি বর্জণীয়। প্রসিদ্ধ আছে আজানের জওয়াব না দিলে বা আজানের সময় কলা বললে, বেইমান হয়ে যাই কিংবা বেইমান অবস্থায় মারা যাওয়ার ভয় আছে। এরুপ কোন বর্ণনাও হাদিসের কিতাবে নেই।

সুতরাং এটিও ভ্রান্ত বিশ্বাস। তবে আজানে চুপ থাকতে হবে। যারা আজানের জওয়ার দিবে না। নামাজ আদায়কারী, অনাহার অবস্থায়, ইস্তেন্জাকারী ইত্যাদি সময় জওয়াব দেওয়া যাবে না। তবে অনেক আলেমদের মতে আজানের পরক্ষনে যদি উল্লেখিত কাজ থেকে অবসর হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আজানের জওয়াব দিয়ে দেওয়া উত্তম। কুরআন তিলাওয়াতকারী তিলাওয়াত সাময়িক বন্ধ রেখে আজানের জওয়ার দেওয়াই উত্তম।

জুমআর দ্বিতীয় আজানের জওয়াব জুমআর দ্বিতীয় আজানের সময় যখন খতিব সাহেব মিম্বরে উপবিষ্ট থাকেন, তখন ফিকাহ বিদদের নির্ভযোগ্য মতানুযায়ী, জুমআর দ্বিতীয় আজানের জাওয়াব মৌখিক না দেওয়াটাই উত্তম। তা সত্বেও কেউ দিতে চাইলে মনে মনে জবাব দিতে পারেন।

আজানের সময় দুনিয়াবী কথা ও কাজে লিপ্ত থাকা, আজানের সময় চুপ থাকা সুন্নত। একান্ত প্রয়োজন না হলে সাধারন দ্বিনী ও দুনিয়াবী কথা বা কাজে লিপ্ত থাকা অনুচিৎ। বক্তিৃতা বা সেমিনার চলাকালে আজান হয়ে সাময়িক তা স্থগিত রাখবে। ওয়াজ বা কোন দ্বিনী মাহফিল চলাকালেও তা সাময়িক বন্ধ রেখে সবাইকে আজানের জওয়াব দেওয়া উত্তম।

মনে রাখতে হবে। একজন আজানের জওয়ার দিলে সবার পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায়। কেনন আজানের জওয়াব দেওয়া শ্রবণকারী সব মুসলমানের জন্য সুন্নত। আর আজানের জবাব দেওয়া সুন্নতে কেফায়া। রেডিও টেলিভিশনের আজানের সরাসরি সপ্রচার করা হলে জবাব দেওয়া সুন্নত। রেকর্ড করা হলে তার জবাব দেওয়া সুন্নত নয়। আজানের পর দরুদ শরীফ ও দোয়া পাঠ করা সুন্নত। হাদিস শরীফে এর ফিজলত বর্ণিত হয়েছে। রসুলুল্লাল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আজানের পর আল্লাহুম্মা রব্বাহাজিহিদ্দা ওয়াতিতাম্মা। এই দোয়াটি শেষ পর্যন্ত পাঠ করবে তার জন্য আখিরাতে আমার সুপারিশ অবধারিত বুখারী- হাদিস নং ৬১৪।

অন্য বরর্ণনায় রয়েছে। তোমরা মুয়াজ্জিনের অনুরুপ শব্দের আজানের জবাব দাও অতপর দরুদ পাঠ কর। এরপর আমার জন্য বেহেস্তের সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থানের জন্য দোয়া করো। আশা করি আল্লাহ তায়ালা আমাকেই সেই স্থান দান করবেন। যে ব্যক্তি এ দোয়া করবে, তার জন্য আখিরাতে আমার সুপারিশ অবধারিত হয়ে যায়। মুসলিম হাদিস নং ৩৮৪।

আজানের পর হাত তোলে মুনাজাত,

আজানের পর দরুদ শরীফ পরে একটি বিশেষ দোয়া পরার কথা হাদিস শরীফে রয়েছে। তবে আজানের পর হাত তুলে দোয়া পরা ও মুনাজাত করার কথা উল্লেখ নেই। আল্লাহুম্মা রব্বাহাজিহিদ্দা ওয়াতিতাম্মা এ দোয়াটি শেষ পর্যন্ত পরার জন্য হাত তোলার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা নেই।

আজানের মতো মুসল্লিদেরে একামতের জবাব দেওয়া মুস্তাহাব। একামতের জবাবও আজানের অনুরুপ। শুধু একামতের মধ্যে, “কাদকা মাতিস সালাহ”, এর জবাবে, ‘আকাহমাল্লাহু ওয়া আদামাহা বলবে। হযরত আবু উমামা রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত একবার হযরত বেলাল রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু একামত দিচ্ছিলেন তখন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সঙ্গে আজানের অনুরুপ উত্তর দিয়েছেন, তবে কাদকা মাতি সালাহ বলার সময় বলেন, আহকামাল্লাহু ওয়া আদামাহা।

 

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সুদৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সকালে সায়্যিদুল ইস্তিগফার পাঠ করবে, সে যদি সন্ধ্যা হওয়ার আগেই মারা যায়, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে সুবহান আল্লাহ।

আর যে ব্যক্তি সুদৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সন্ধ্যায় “সায়্যিদুল ইস্তিগফার” পড়ে, সে যদি সকাল হওয়ার আগেই মারা যায়, তবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। -সহিহ বোখারি: ৬৩০৬

আসুন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ট আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শেখানো ইস্তেগফারের দোয়াটি আমরা সবাই শিখে নেই।

আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি। লা ইলাহা ইল্লা আনতা। খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা। ওয়া আনা আলা আহদিকা। ওয়া ওয়া’দিকা মাসতাতা’তু। আউজু বিকা মিন শাররি মা-সানা’তু। আবুয়ু লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়্যা। ওয়া আবুয়ু লাকা বি জাম্বি। ফাগফিরলী। ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনবা ইল্লা আনতা। অর্থাৎ হে আল্লাহ! একমাত্র আপনিই আমাদের প্রতিপালক। আপনি ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই। আপনিই আমার স্রষ্টা এবং আমি আপনার দাস। আমি আপনার সঙ্গে কৃত ওয়াদা ও অঙ্গীকারের উপর সাধ্যানুযায়ী অটল ও অবিচল আছি। আমি আমার কৃতকর্মের সব অনিষ্ট হতে আপানার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমার উওর আপনার দানকৃত সব নেয়ামত স্বীকার করছি। আমি আমার সব গুনাহ স্বীকার করছি। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। কেননা, আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না সুবহান আল্লাহ।

এছাড়াও সূরা আন-নূর এ বলা হয়েছে।- মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।

আর সূরা আশ-শুরা- তিনি তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন পাপসমূহ মার্জনা করেন এবং তোমাদের কৃত বিষয় সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।

আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেন: হে আদম সন্তান! যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি আমাকে ডাকবে এবং আমার কাছে (ক্ষমা) প্রত্যাশা করবে, তুমি যা-ই প্রকাশ হোক না কেন আমি তা ক্ষমা করে দেব- আর আমি কোন কিছুর পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তোমার গোনাহ্ যদি আকাশ সমান হয়ে যায় আর তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাও, তাহলে আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব। হে আদম সন্তান! যদি তুমি পৃথিবী পরিমাণ গোনাহ্ নিয়ে আমার কাছে আস এবং আমার সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক না করে আখেরাতে সাক্ষাত কর, তাহলে আমি সমপরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার সঙ্গে সাক্ষাত করবো। [তিরমিযী তে হাদিস খানা বর্ণনা হয়েছে হাদিস নং-৩৫৪০)

আবু সাইদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন বনী ইসরাইলের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল নিরানব্বই জন মানুষকে হত্যা করেছিলো। অতপর সে ফতওয়া জিজ্ঞেস করার জন্য বের হলো এবং একজন দরবেশের নিকট গিয়ে জিজ্ঞেস করলো তার ভিতরে অনেক অপরাধবোধ কাজ করছিলো, সে হতাস হচ্ছিল সে ভাবছিলো যে, তার হয়তো কোনদিন ক্ষমা হবে না। এরুপ ব্যক্তি জন্য কোন তওয়া আছে কি, সে জিজ্ঞেস করলো তিনি বললেন নেই। যেই লোকটি তাকে নেই বললেন, সে আলে নয় একজন জুলুমকারী ছিল এবং সে তাকেও হত্যা করলো এবং বারবার লোকদের জিজ্ঞেস করতে থাকলো অমু গ্রামে যাও অমুককে জিজ্ঞেস করো সময় তার মউত এসে গেলো এবং মৃত্যুকালে সে স্বীয় বক্ষককে ঐ গ্রামের দিকে কিছু বাড়িয়ে দিলো। অতপর রহমতের ফেরেস্তা ও আজাবের ফেরেস্তার দল পরস্পর ঝোগড়া করতে লাগলো। তারা তার রুহ নিয়ে যাবে। এ সময় আল্লাহ তা’য়ালা ঐ গ্রামকে বললেন তুমি মৃত্যের নিকট আসো। আর তার নিজ গ্রামকে বললো তুমি দুরে সরে যাও। অতপর ফেরেস্তাদের বললেন। তোমরা উভয় দিকের দুরত্ব মেপে দেখ মেপে তাকে এই গ্রামের দিকে বিঘত নিকটে পাওয়া গেলো। অর্থাৎ যেদিকে তওবার জন্য দৌড়াচ্ছিল, আল্লাহু আকবার, সুতরাং তাকে মাফ করে দেওয়া হলো। বুখারী , মুসলিম, মেসকাত শরীফেও হাদিসখানা বর্ণনা হয়েছে ২২১৯ নং হাদিস।

আল্লাহ তায়ালা তাওবাকারীদে অত্যান্ত ভালোবাসেন। বান্দা যখন তার অপরাধের জন্য অনুশুচনায় দগ্ধ হয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থণা করেন, তিনি তখন আনন্দিত হন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বান্দার তওবাতে কি পরিমাণ আনন্দিত হন তা নিম্নোক্ত হাদিসটি দেখুন।

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খাদেম আবু হামজা আনাস বিন মালিক, রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোন লোক বিজন মরুপ্রান্তরে উট হাড়িয়ে যাবার পর, পূণরায় তা ফিরে পেলে যে পরিমান আনন্দে উদ্বেলিত হয়, মহান আল্লাহ বান্দার তওবাতে তার চেয়ে বেশি আনন্দিত হন- সহিহ বুখারী।

আনাস ইবনুল মালিক, রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আমি বলতে শুনেছি বারাকাতময় আল্লাহ তায়ালা বলেন হে আদম সন্তান যতক্ষন আমাকে তুমি ডাকতে থাকবে এবং আমার থেকে ক্ষমা পাওয়ার আসায় থাকবে, তোমার গুনাহ যত অধিক হোক, তোমাকে আমি ক্ষমা করবই। এতে কোন পরোয়া করবো না। হে আদম সন্তান তোমার গুনাহর পরিমাণ যদি আসামানের কিনারা বা মেঘমালা পর্যন্ত পৌছে যায়, তার পরও তুমি আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো। আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেবো। এতেও আমি পরওয়া করবো না।

সর্বশেষ বুখারী শরীফের ৫৯৯৯ এর হাদিসের উর্দ্ধিতি দিয়ে শেষ করছি উমর ইবনুল খাত্তাব হতে বর্ণিত তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট কতগুলো যুদ্ধ বন্দিকে হাজির করা হলো। বন্দিদের মধ্যে একজন স্ত্রীলোক ছিল, যার স্তন ছিলো দুধে পূর্ণ, সে বন্দিদের মাধ্যে কোন শিশু পেলে তাকে কোলে নিত, এবং আদর করে নিজের বুকের দুধ পান করাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বললেন, তোমরা কি মনে করঃ এই স্ত্রী লোকটি তার সন্তানকে আগুনে ফেলে দিতে পারে? আমরা বললাম ফেলার ক্ষমতা রাখলেও সে কখনও ফেলবেনা। তারপর তিনি বললেন, এই স্ত্রীলোকটি তার সন্তানের প্রতি যতটা দয়ালু, আল্লাহ তার বান্দার উপর তার চেয়েওে বেশি দয়ালু, সুবহান আল্লাহ।

 

হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাল্লাহু থেকে বর্ণিত নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ব্যভিচারী যখন ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তখন সে মুমিন থাকেনা। চোর যখন চুরির কাজে লিপ্ত হয় তখন সে, মুমিন থাকে না। মদ্যপ ব্যক্তি যখন মদ পানে লিপ্ত হয়, তখন সে মুমিন থাকেনা। কিন্তু তার পরও তার জন্য তওবার দরজা খোলা থাকে- সুবহান আল্লাহ।

আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন আমাদের প্রত্যেকটি ভাইকে তওবাতুন নসুয়া করার তৌফিক দান করুক। এবং আমরা যেন অবশ্যই মৃত্যুর আগে একবার হলেও সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার বা তওবার শ্রেষ্ঠ দোয়াটি পড়ে যেতে পারি আমিন।

 

Saturday, October 15, 2022

আমরা দোয়া করি, কিন্তু দোয়া কি কবুল হচ্ছে। কিভাবে বুঝবো? We pray, but are prayers being answered? How to understand?

 আমরা দোয়া করি, কিন্তু দোয়া কি কবুল হচ্ছে। কিভাবে বুঝবো?

We pray, but are prayers being answered? How to understand?



আমরা দোয়া করি, কিন্তু দোয়া কি কবুল হচ্ছে। কিভাবে বুঝবো? যে আমাদের দোয়া কবুল হচ্ছে কিনা? চোখ বন্ধ হাত বেধে রাখা ঠোট নড়ছে, মুখ চলছে অবিরাম, কিন্তু মন আর হৃদয় অন্য জগতে। মুখের কথা আর অন্তরের চিন্তায় বিস্তর ফারাক। এই যদি হয় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে কিছু চাওয়ার সময় আমাদের মনের অবস্থা, তাহলে দোয়া কবুল না হওয়াতে আর আশ্চর্য্যের কি আছে বলুন?

চলুন যেনে নেই যে গুরুত্বপূর্ণ চারটি বিশেষ ভুলের কারণে আমাদের দোয়া সমূহ আল্লাহ রব্বুল আলামিনের কাছে কবুল হয় না।

১. হারাম উপার্জন: রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এক লোক অনেক দূর থেকে সফর করে এসেছে। তার চুল-কাপড় এলোমেলো, ধূলিধূসরিত। আর সে তার দুই হাত আকাশের দিকে তুলে বলছে: “ইয়া রব! ইয়া রব!” অথচ তার খাবার হারাম, তার পানিও হারাম, তার পরনের কাপড় হারাম, আর তার তার শরীর পুষ্ট হয়েছে হারাম দিয়ে।

এমন অবস্থায় কীভাবে তার দু’আ কবুল হতে পারে? [সহি-মুসলিম]। আমাদের উপার্জনের প্রতিটা পয়সা যদি হারাম উৎস অথবা সুদ থেকে এসে থাকে, তাহলে কীভাবে আমরা আশা করতে পারি যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদের দু’আ কবুল করবেন? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদের জন্য সুদকে হারাম করেছেন, অথচ আমরা এমনভাবে সুদ গ্রহণ করি যেন এটা কোন অপরাধই না! আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সুদখোরদের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এত বড় হুশিয়ারি আসা সত্ত্বেও আমরা সুদ ছাড়তে পারি না!

আফসোস যে আমরা আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলাকে খুশি করার জন্য এই সামান্য কাজটাও করতে পারি না, অথচ আমরা আশা করি যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন আর আমাদের সমস্ত চাহিদা মিটিয়ে দেবেন। কত বড় অবিবেচক আমরা!

৩. জিনা আমরা অনেকে আল্লাহ তা’আলার কাছে কিছু চাইতে থাকি এমন অবস্থায় যে আমরা চাওয়ার মুহূর্তেও জঘন্য সব গুনাহতে লিপ্ত। এগুলো এমন সব গুনাহ যার গোপনীয়তা আমরা সমাজের সামনে খুব সতর্কতার সাথে বজায় রাখি। অথচ যখন আমরা এসব করি তখন আল্লাহ তা’আলার দৃষ্টিসীমার মধ্যেই করি! জিনার ব্যাপারে ইসলামের নিষেধাজ্ঞা এতটাই কঠোর যে, আল্লাহ তা’আলা আমাদের এর ধারের কাছেও যেতে নিষেধ করেছেন। আর এতে জড়িয়ে পরাত অনেক পরের কথা। [সুরা আল-ঈসরার: ৩২ নং আয়াত]। যখন জিনাকারি ব্যাক্তি তার লজ্জাকর কাজ সমাপ্ত করে, তখন সে তার বিশাল অপরাধের বোঝা নিয়েই আল্লাহ তা’য়ালার কাছে আরও নিয়ামত চাইতে থাকে! সুবহানাল্লাহ! এভাবে আল্লাহর সামনে হাজির হতে কি তার লজ্জা করে না?

৪. নম্বর বাধা হচ্ছে কবিরা গুনাহ, গীবত করা, পরনিন্দা করা, মিথ্যাচার, প্রতারণা, অন্যকে কষ্ট দেয়া এবং এরকম অন্যান্য সকল হারাম কাজ কবীরা গুনাহ আল্লাহ তা’আলা ত্যাগ করেত বলেছেন এবং এ সকল কাজের সাথে যুক্ত হতে নিষেধ করেছেন। আর আমরা মনে করি যে, আমরা আল্লাহ তা’য়ালার অবাধ্যতা করতে থাকা অবস্থায় তিনি আমাদের দু’আ কবুল করবেন!

কোন সাহসে আমরা আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলার সামনে দাঁড়াই যখন কিনা আমরা তাঁর হুকুমের ঠিক বিপরীতে কাজ করে চলছি! তবে আশার বিষয় হচ্ছে যে; আমরা যেই বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিলাম তার আরও একটি দিক রয়েছে। যারা আল্লাহ তা’আলার একান্ত বাধ্য, যারা তাদের আমলের ব্যাপারে আন্তরিক, যারা আল্লাহর ভয়ে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে, আর আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টির আশা নিয়ে ভালো কাজ করে, দু’আর প্রতিফল তাৎক্ষণিক না পেলেও তাদের হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই।

“তোমরা কি ভেবেছ যে তোমরা এমনি এমনিই জান্নাতে প্রবেশ করবে; যদিও তোমাদের অবস্থা এখনও তোমাদের পূর্ববর্তীদের মতো  হয়নি? অর্থ- সংকট, দুরাবস্থা, ক্লেশ তাদের স্পর্শ করেছিল এতদুর পর্যন্ত যে, [এমনকি তাদের] রাসূল এবং তাঁর সাথে ঈমানদারগণ বলে উঠেছিলেন যে, ‘কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে?’ জেনে রাখ, অবশ্যই আল্লাহর সাহায্য অতি সন্নিকটে”। [সুরা আল বাকারা আয়াত নাম্বার ২১৪] আমাদের চারপাশের সবকিছুই পরীক্ষা। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ চাইবে না এই পরিক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে চূড়ান্ত ও সবচাইতে বড় পুরস্কার হাত ছাড়া করতে।

আল্লাহ যাঁকে কুরআনের সান্ত্বনা দিয়েছেন, সেখানে সেই রাসূলকে আল্লাহ পরীক্ষা করেছেন, সেখানে আমরা কি? হাল ছেড়ে দিবেন না। আমাদের রব আমাদের পক্ষে আছেন। আন্তরিকতার সাথে চোখের পানি ফেলতে থাকুন; আল্লাহ তা’আলার প্রতি সর্বোচ্চ ভরসা রেখে দু’আ করতে থাকুন। জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনাকে নিরাশ করবেন না। রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন আল্লাহ তাঁর কোনো বান্দাকে ভালবাসেন, তখন তিনি তাকে পরীক্ষা করেন”।


আরো একটি আলোচনা

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- হযরতে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর নিকট কিছুই চায়না, আল্লাহ তায়ালা তার উপর রাগ করেন। এই হাদিস শরীফে শুধু চাওয়া ও অন্তরের গভীর থেকে চাওয়া উভয়ের তার্থে সামিল। সুবহানআল্লাহ, আল্লাহ কত দয়াবান।

মানুষের নিকট কিছু চাইলে মানুষ রাগ করে আর আল্লাহর নিকট না চাইলে আল্লাহ রাগ করেন। হাদিসে কুদসিতে আছে হুযুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, আমি যখন বান্দাকে ভালোবাসি, তখন তার কান হয়ে যাই, যার দ্বারা সে শুনে। তার চোখ হয়ে যাই, যা দ্বারা সে দেখে (আল্লাহু আকবার)। তার হাত হয়ে যাই, যা দ্বারা সে ধরে। তারপর পা হয়ে যাই যা দ্বারা সে চলে। অর্থাৎ বান্দার প্রত্যেকটি অঙ্গপতঙ্গে আমার খোদায়ী শক্তি এসে যায়। ফলে বান্দা যা করতে ইচ্ছে করে সবকিছুই আমার দেওয়া মতাবলে করতে সক্ষম হয়।

যদি সে আমার নিকট সাহায্য প্রার্থণা করে আমি তাকে অবশ্যই সাহায্য করবো। সুবহানআল্লাহ।

উক্ত হাদিস শরীফ দ্বারা প্রমানিত হয় যে, আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের দোয়া আল্লাহ পাকের দরবারে অবশ্যই গৃহীত হয়। হযরতে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।

রোজাদারের দোয়া যখন সে ইফতার করে। ন্যায় বিচারক শাসকের দোয়া এবং অত্যাচারিদের দোয়া। যার উপর নিপীড়ন নির্যাতন করা হয়েছে অন্যায় ভাবে। তার দোয়াকে আল্লাহ মেঘের উপর উঠিয়ে নেন এবং তার জন্যে আসমানের দড়জা খুলে দেওয়া হয় এবং পরওয়ার দিগারে আলম বলেন আমার ইজ্জতের সম্মানের কসম আমি নিশ্চয় তোমাকে সাহায্য করবো।

যদিও কিছু সময় প্রয়োজন হয়। হযরতে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- তিনটি দোয়া কবুল হয়, তাতে কোন সন্দেহ নেই। পিতার দোয়া, মুসাফিরের দোয়া ও নিপিড়ীতের দোয়া। রসুলপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উদৃতি অনুযায়ী অসংখ্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তাদের দোয়া আল্লাহ পাক কখনই ফিড়িয়ে দেন না। আজকে এই রিপোর্টটিতে আমরা অনেকগুলো হাদিস থেকে বিশ্লেষণ করে একটি লিস্ট করেছি যে ব্যক্তিদের দোয়া আল্লাহ অবশ্যই কবুল করেন। রসুলপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস অনুযায়ী তারা হলেন। বিপদগ্রস্থ ও অসুস্থ্য ব্যক্তির দোয়া, অত্যাচারিত মজলুম ব্যাক্তির দোয়া. সন্তানের জন্য বাবা মায়ের দোয়া, যে সন্তান একনিষ্ঠ মনে বাবা মায়ের খিদমত করে সে সন্তানের ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া, মুসাফিরের দোয়া, রোজাদার যখন ইফতারের সময় দোয়া করে সে দোয়া, এক মুসলমানের জন্য অন্য মুসলমানের অনুপস্থিতিতে তার কল্যাণের জন্য দোয়া। হাজীগণ হজ্জ শেষে বাড়ি ফেরার পথে যে দোয়া করে। আল্লাহর খাটি বান্দাদের দোয়া।

যাই হোক এই রিপোর্টে আমরা যে ৬ শ্রেণির মানুষ এমন রয়েছে, যাদের দোয়া আল্লাহ কখনই ফেরত নেন না। অর্থাৎ তাদের দোয়া কবুল হয়। আপনি কি জানেন? সেই ৬ শ্রেণির মানুষ কারা? চলুন আমরা একটু বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাদের অবস্থান যেনে নেই।

১. অসুস্থ ব্যাক্তির দোয়া : রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, তুমি যদি কখনো কোনো অসুস্থ ব্যাক্তিকে দেখতে যাও তখন তাকে বলো তোমার জন্য দোয়া করতে। কারণ অসুস্থ ব্যাক্তির দোয়া ফেরেশতাদের দোয়ার মতোই কার্যকর হয় সুবহানআল্লাহ। শুধু তাই নয় রোগী দেখার বিষয়ে হাদিসে এসেছে হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে ব্যক্তি কোন সকাল বেলা কোন অসুস্থ্য মুসলমানকে দেখতে যায় ৭০ হাজার ফেরেস্তা বিকাল পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করতে থাকে। আর বিকেলে রোগী দেখতে গেলে সকাল পর্যন্ত ৭০ হাজার ফেরেস্তা দোয়া করেন, শুনানে তিরমিযি ৯৬৭ নম্বর হাদিস। তবে রোগীকে দেখতে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সুন্নত রয়েছে যা দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে আরও সহযোগী এক. অযু সহকারে রোগীকে দেখতে যওয়া। এই মর্মে হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন যে ব্যক্তি উত্তমরুপে অযু করে ছাওয়াবের উদ্দেশ্যে কোন অসুস্থ মুসলমান ভাইকে দেখতে যায় তাকে জাহান্নাম থেকে ৬০ বছরের পথ দূরে রাখা হবে সুবাহানআল্লাহ। দ্বিতীয়ত হচ্ছে রোগীর অবস্থা বুঝে শরীরে হাত রেখে রোগের কথা জিজ্ঞেস করা।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, শশ্রুষার পূর্ণতা হলো- রোগীর কাপলে বা শরীরে হাত রেখে জিজ্ঞেস করা আপনি কেমন আছেন? সুবহানআল্লাহ। রোগীর সামনে এমন বলা- যাতে সে সান্তনা লাভ করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন রোগীকে দেখতে গেলে বলতেন সান্তনামূলক কথা। বিভিন্ন হাদিসের এরশাদ থেকে বর্ণনা করতেন। যেমনটি আপনি করতে পারেন। আপনার প্রিয় বন্ধু অসুস্থ অবস্থায় গিয়ে তার মাথার শীহরে বসে বলতে পারেন- হে ভাই বা বন্ধু তুমি কি জানো? প্রতিটি রোগের জন্য আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন মানুষের গুনাহ ক্ষমা করে দেন। এমনকি পায়ে একটি কাটা বিনলেও মানুষের গুনাহ ক্ষমা হয়ে যায়, সুবহানআল্লাহ। তুমি অসুস্থ হয়েছো? আল্লাহ তোমার গুনাহ ক্ষমা করে দিচ্ছেন।

দেখুন একটি হাদিস তার অন্তরে কতটা সাহস জোগাবে। আর বিনিময়ে আপিন আল্লাহ পাকের দরবারে এমন একজন মানুষ হয়ে যাবেন, ঠিক যেন একজন ফেরশতার মত, যাদের দোয়া আল্লাহ পাকের দরবারে সাথে সাথে কবুল হয়ে যায়। রোগীর কাছে বেশি সময় ক্ষেপন না করা। আরেক বর্ণনায় এসেছে রোগী দেখার উত্তম পন্থা হলো তারাতারি ফিরে আসা। আপনি চাইলে তার জন্য কিছু ফল নিয়ে যেতে পারেন। অথবা আপনি রোগ বুঝে তার জন্য এমন কিছু খাবার নিতে পারেন যা তার জন্য অবশ্যই উপসম মূলক হতে পারে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রোগী যদি কিছু খেতে চায়, তবে তাকে খেতে দেওয়া উচিৎ।

রোগীর সম্মানে উচ্চ আওয়াজে কথা না বলা। ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা বলেন সুন্নত হলো রোগীর পাশে কম সময় বসা এবং নিচু আওয়াজে কথা বলা। রোগীর জন্য দোয়া করা। বিভিন্ন দোয়া হাদিসে বর্ণিত হয়েছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন কোন রোগীর কাছে গিয়ে নিম্নের দোয়াটি ৭ বার পাঠ করলে মৃত্যু রোগ ছাড়া সব রোগ থেকে সে সুস্থ হয়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ। দোয়াটি হলো: আসআলুল লাহাল আজিম রাব্বানা আরসিল আজিম আই ইয়াস ফি-আক্বা- আবু দাউদ ৩১০৬ নং হাদিস। রোগীর কাছে নিজের জন্য দোয়া চাওয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা রোগী দেখতে গেলে তার কাছে নিজের জন্য দোয়া চাও। কেননা তার দোয়া ফেরেশতার দোয়ার সমতূল্য। সুবহানআল্লাহ।

আপনি রোগীর দেখতে গেলেই তাকে যেকোন মূল্যে খুশি রাখুন। তার জন্য খাবার নিয়ে যান, তার জন্য দোয়া করুন। আর ফিরে আসার সময় অবশ্যই ছোট্ট করে বলুন, যে ভাই আপনি আমার জন্য একটু দোয়া করুন সুবহান আল্লাহ। রাসুলপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গ্যারান্টি দিয়েছেন একজন রোগী কোন সাধারণ মানুষের জন্য দোয়া করা ঠিক তেমনি, যেমন একজন ফেরেসতার দোয়া। ফেরেশতার দোয়া যেমন আল্লাহ পাকের দরবারে সাথে সাথে কবুল হয়। একজন রোগীর দোয়াও সাথে সাথে কবুল হয়ে যায়।

যাই হোক সংক্ষেপে আমরা বাকী ৫ শ্রেণির মানুষ যাদের দোয়া আল্লাহ কবুল করেন, তাদের বর্ণনা গুলো জেনে নেই।

 রোজাদার ব্যক্তির দোয়া : রোজাদার ব্যক্তির দোয়া জাদুর মতো কাজ করে। অনেক উলামায়ে কেরাম ইবাদাত ও দোয়া করার জন্য রোজার রাখার মুহূর্তকে সোনালী মুহুর্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। হযরত ওমর ইবনে আস রাদ্বিয়াল্লাহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, যখন রোজাদার ব্যাক্তি ইফতার করে তখন তার দোয়া ফেরত দেয়া হয় না। (সুনানে ইবনে মাজাহ) তৃতীয় নম্বরে রয়েছে সন্তানের জন্য পিতা-মাতার দোয়া : হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তিন ধরনের দোয়া কবুল হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ থাকে না।

এক. মজলুম বা নিপীড়িত ব্যাক্তির দোয়া। দুই. মুসাফিরের দোয়া। তিন. সন্তানের জন্য পিতার দোয়া। সুতরাং কোন পিতা মাতা তার সন্তানের জন্য খুশি হয়ে দোয়া করলে সে দোয়া অবশ্যই আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের দরবারে কবুল হবেই। চতুর্থ নম্বর হচ্ছে কোন ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তার জন্য অপর ব্যাক্তির : কোনো ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তার জন্য অপর একজন দোয়া করলে সেই দোয়া আল্লাহর কাছে পৌঁছার আগেই আল্লাহ তাআলা তা কবুল করেন। উম্মু দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার স্বামী আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি তার ভাই এর অনুপস্থিতিতে তার জন্য দুআ করে, তার জন্য একজন নিয়োজিত ফিরিশতা আমীন বলতে থাকে এবং বলে, তোমার জন্যও অনুরূপ হোক, সুবহান আল্লাহ।

সুতরাং কোন ভাইয়ের কল্যাণের জন্য যদি আপনি দোয়া করেন আপনার জন্য আরেকজন ফেরেশতা দোয়া করতে থাকবে। আল্লাহু আকবার আল্লাহ আমাদের বেশি বেশি অপর মুসলমান ভাইর জন্য দোয়া করার তৌফিক দান করুক। আর মনে রাখবেন অন্য মুসলিম ভাইয়ের জন্য দোয়া করার ক্ষেত্রে মনে কোন সংকীর্ণতা রাখবেন না।

আল্লাহ তাকে অর্থ সম্পদ দ্বিন দুনিয়ায় সকল কিছুতে কল্যাণ দান করুক এই রকম মন থেকে উদারভাবে তার জন্য দোয়া করবেন এবং আল্লাহ আপনার জন্য ঠিক অনুরূপ দোয়ায় আরেকজন ফেরেশতার মাধ্যমে কবুল করে নিবেন। সুবহান আল্লাহ। পাচ নম্বর হচ্ছে মজলুম বা নিপীড়িত ব্যাক্তির দোয়া : রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা মজলুমকে জালেমের বিরুদ্বে সাহায্য করো। হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তিন ধরনের দোয়া কবুল হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ থাকে না।

আর যার মধ্যে প্রথমেই হচ্ছে মজলুম বা নিপীড়িত ব্যাক্তির দোয়া। আর বাকি দুই জন হলেন সন্তানের জন্য পিতার মাতার আর মুসাফিরের দোয়া। ষষ্ঠ নম্বরে হচ্ছে মুসাফির ব্যক্তির দোয়া : হাদীস শরীফে আছে, যা কিছুক্ষণ আগের হাদিসের বর্ণনায় উদৃতি দিয়েছি যখন কোনো ব্যাক্তি সফরে থাকে তখন তার দোয়া কবুল হয়। প্রকৃত পক্ষে মুসাফির তিনি যিনি ৪৮ মাইল পথ অতিক্রমের লক্ষে বাসা থেকে বের হন। নিজ বাড়ি থেকে বের হলে মানুষ অনেক ক্ষানি অসহায়ত্ব অনুভব করেন। একজন ব্যক্তি মুসাফির অবস্থায় যেখানে থাকেন সেখানে তিনি সর্বোত্তম ব্যবহারের হকদার। তার সাথে উত্তম আচরণ করা হলে তার সন্তুষ্টি প্রকাশ বা দোয়া আল্লাহ কবুল করেন।

সুতরাং কখনও কোন মুসলিম ভাই যদি কোথাও মুসাফির দেখি অসহায় অবস্থায় আছে, অবশ্যই অবশ্যই আমরা তার সাহায্য করার চেষ্টা করবো। তাকে অর্থ দিয়ে হোক, খাদ্য দিয়ে হোক, আশ্রয় দিয়ে হোক তার সাহায্য করবো। মনে রাখবেন কোন মুসাফির যদি হাত তুলে আপনার জন্য সন্তুষ্টি জ্ঞাপন করে দোয়া করে আল্লাহু আকবার আপনি অবশ্যই অবশ্যই সে দোয়ার ফল ফ্রুশ ফলাফল ভোগ করবেন। ইনশাআল্লাহ সর্বশেষ বলতে চাই উমর বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছেন তিনি বলেন, রাসুলুল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নিশ্চই দোয়া আসমান ও জমিনের মধ্য স্থানে ঝুলন্ত থাকে কোন অংশ আসমানে উদৃত হয় না।

যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি তোমার নবীর উপরে দরুদ শরীফ না পড়। দোয়া কবুল হওয়ার কারণ দোয়া করার পূর্বে তাওবা করে পাপ মুক্ত হয়ে নিবে। দেখা যায় যে, প্রায় ক্ষেত্রে মানুষের দোয়া কবুল হয় না। এর কারণ হলো পূর্ণাঙ্গভাবে সর্বন্তকরণে দোয়া হয় না। বরং অস্পস্টতা ও অন্য মনোস্কতার সাথে দোয়া করা হয়। কিংবা দোয়া কারির অন্তর অন্ধকারে আচ্ছন্ন থাকে হযরত কাবুল রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন এক সময় বনি ইসরাইলের লোকদের মাঝে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলো। তখন মুসা আলাইহিস সালাম তার উম্মতদেরকে নিয়ে ময়দানে সমবেত হয়ে পর পর তিনবার বৃষ্টিপারেত জন্য আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের দরবারে প্রার্থনা করেন। কিন্তু এক ফোটা বৃষ্টিপাতও হলো না। শেষ পর্যন্ত অহি নাজিল হলো, হে মুসা আলাইহিস সালাম তোমার উম্মতদের মাঝে পরনিন্দাকারী একজন লোক রয়েছে সে ব্যক্তি তোমাদের দলের মাঝে থাকা পর্যন্ত তোমাদের দোয়া কবুল হবে না। হযরত মুসা আলাইহিস সালাম বলেন, হে প্রভু সে কোন ব্যক্তি বলে দিন, তাকে বের করে দিন, অহি নাজিল হলো, আমি পরনিন্দা করতে নিষেধ করেছি, এখন কিভাবে নিজেই পরনিন্দা করবো আল্লাহু আকবার।

তার মানে আল্লাহ বলছেন, আমি যে ব্যক্তি পরনিন্দা করে, আমি যদি সে গোনাহগারের পরিচয় তোমার কাছে ফাস করে দেই তাহলে আমি নিজেই পরনিন্দাকারী হয়ে যাবো, সুবহান আল্লাহ। আল্লাহ পাকের কৌশল আল্লাহ পাকের ভাষা শৈলি কত উন্নত হতে পারে। তখন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম তার সম্প্রদায়ের লোকদের পরনিন্দা করা থেকে তওবা করার নির্দেশ দিলেন। তখন সবাই নিজের অন্তর থেকে কেদে তওবা করলো। সাথে সাথেই বৃষ্টিপাত শুরু হলো। আল্লাহু আকবার। দোয়া কবুল না হওয়ার কোন কারণ নেই।

হারাম মাল ভক্ষণ করা বন্ধ করে দিতে হবে। খাছ করে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের দরবারে দুচোখের পানি ফেরে কেদে কেদে নিজের গোনাহের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। অতপর দুই হাত তুলে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে যাই চাইনা কেনো। অবশ্যই আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন আমাদের দোয়া করবেনই। ইনশাআল্লাহ।

Thursday, January 13, 2022

Alokmiti


 https://wa.me/c/8801767222187

Tuesday, December 14, 2021

16 December 2021 | Umar Creation

Introduction about victory day – Bijoy Dibosh



Victory is not an easy word, it came across the unlimited life. Many people lose their houses and family member for this victory. At that time I mean in 19971 most of my sister and mother were raped. That was a very sad story. After the victory, they forgot everything that they had faced. They were happy with the independence. They are the real heroes, we can never repay their debt.

Actually, this war started on 25 March 19971. Pakistani military force killed many sleeping Bangladeshi on that night. After this incident war began to start. It was a long war about nine months. Almost three million people lose their lives and many women were raped. After nine months of the bloody fight, we got a victory against Pakistan as they surrender to us with their all weapon. This day is the result of a historic war.

After the declaration of Independence and victory, new flag founded on map of world. Now we are freedom nation in the world. To remember this victory every year we celebrate this day with huge respect. On this day victory day is knocking at the door.



We celebrate this day by following many ways and tradition. On this morning we go to the Shahid Minar and arrange it with the flowers, after that we keep ourselves silent at least one minute. Actually their is no benefit of it. It’s just tradition. We should pray for their soul by praying Salah or keep fasting.

On this day, we want to write post on social media platforms and send pictures to our friends. If you are also and now looking for some images of victory day of Bangladesh. I want to reply you that you are so lucky person beacouse you have came to the exact place. Here we are going to share with you 20+ excellent pic of Bijoy Dibosh.

Friday, September 17, 2021

64 District Name Divisions of Bangladesh & Established Date | বাংলাদেশের ৬৪ জেলার নাম | বিভাগ, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, আয়তন ও প্রতিষ্ঠিত সাল

The administration of Bangladesh is divided into eight major regions called Divisions (বিভাগ). Each Division is named after the major city within its jurisdiction that also serves as the administrative headquarters of that division. Each division is further split into several districts (জেলা) which are then further sub-divided into Upazilas.



The divisions of Bangladesh are divided into 64 Districts, or Zila (জেলা). The districts are further subdivided into 504 sub-districts or towns, or Upazila (উপজেলা).

Following the independence of Bangladesh in 1971, the country had four divisions: Chittagong Division, Dhaka Division, Khulna Division and Rajshahi Division.

In 1983, the English spelling of the Dacca Division (along with the name of the capital city) was changed into Dhaka to more closely match the Bengali pronunciation. In 1993, Barisal Division was split off from Khulna Division; in 1995, Sylhet Division was split off from Chittagong Division; and in 2010 (25 January), Rangpur Division was split off from Rajshahi Division, this latest creation consisting of the Rangpur and Dinajpur areas. In terms of area the newly formed Rangpur Division ranked fifth followed by Barisal and Sylhet division. On 14 September 2015 Mymensigh was added as eighth division.

List of Divisions & Year Established in Chronological Way (Information Valid as of January 2016)